খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
খাগড়াছড়ির গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই অবরোধ ঘিরে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সিন্দুকছড়ি সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. মাজহার হোসেন রাব্বানীসহ ১৬ সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন আরও আটজন।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গুইমারার রামেসু বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা জানান, ধর্ষণ মামলার বিচারের দাবিতে ‘জুম্ম ছাত্র জনতা’ ব্যানারে পূর্ণদিবস সড়ক অবরোধ চলছিল। অবরোধ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরে যেতে বললে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে অবরোধকারীরা সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এসময় বাজারের দোকানপাট ও আশপাশের কয়েকটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দোকানপাট জ্বলতে দেখা যায়। বাজারের দোকানগুলোর বেশিরভাগ মালিক পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহগুলো খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ইউপিডিএফের উসকানিতে সকাল থেকেই খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালানো এবং গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। সেনাবাহিনীর টহল দল দুপুরে রামেসু বাজার এলাকায় পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘আগুনে বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ও বসতঘর পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি থমথমে। সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।’
গুইমারা থানার ওসি মো. এনামুল হক চৌধুরী জানান, পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। বর্তমানে এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে খাগড়াছড়ি শহরে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, সাজেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র থেকে পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৪৪ ধারা জারির পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এক আদেশে জানান, খাগড়াছড়ি পৌরসভা ও সদর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে।
খবরওয়ালা/এন