খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কটাক্ষের জবাবে উল্টো নেটোকেই ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি ইউক্রেইনে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠায়, তবে তা নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় উত্তেজনা ছড়িয়ে দেবে।
বৃহস্পতিবার কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী সোচিতে ভালদাই ডিসকাশন গ্রুপের সভায় দেওয়া বক্তৃতায় পুতিন বলেন, ‘আমরা যদি পুরো নেটো জোটের সঙ্গেও লড়াই করি, এবং তাতে অগ্রসর হই, তারপরও যদি আমাদের “কাগুজে বাঘ” বলা হয়, তাহলে নেটো কী?’
ইউক্রেইন যুদ্ধকে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলো কার্যত রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প একসময় ইউক্রেইনকে শান্তির জন্য ভূমি ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিলেও সম্প্রতি অবস্থান বদলে বলেছেন, কিইভ দখল হওয়া সব ভূমি ফিরিয়ে আনতে পারবে। সেই সময় মস্কোকে ‘কাগুজে বাঘ’ও বলেন তিনি।
পুতিন মার্কিন টমাহক সরবরাহের প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ‘মার্কিন সামরিক সদস্যদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়া টমাহক ব্যবহার করা অসম্ভব। যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে তা রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রার উত্তেজনা তৈরি করবে।’
রুশ প্রেসিডেন্ট ইউরোপজুড়ে রুশ ড্রোন দেখতে পাওয়ার দাবি নিয়েও ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘আমাদের এমন ড্রোনই নেই, যা লিসবন পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে।’
নেটোর আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া নেটো দেশগুলোতে হামলা চালাবে—এমন কথা বিশ্বাস করাই অসম্ভব। যারা সামরিকভাবে আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়, তারা চেষ্টা করে দেখতে পারে। রাশিয়ার পাল্টা জবাব আসতে দেরি হবে না।’
পুতিন ইউক্রেইনকে আলোচনায় বসতে আহ্বান জানিয়ে দাবি করেন, কিইভ সেনাবাহিনীতে পর্যাপ্ত সদস্য নেই, অনেকেই বাহিনী ছেড়ে পালাচ্ছে। তার ভাষায়, ‘রাশিয়া ইতোমধ্যেই প্রায় পুরো লুহানস্ক, দোনেৎস্কের ৮১ শতাংশ এবং জাপোরিঝিয়া ও খেরসনের তিন-চতুর্থাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।’
খবরওয়ালা/এন