খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানের স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারাহ নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে স্বামীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার স্বামী বিছানায় বসে একজন এয়ার হোস্টেসের সঙ্গে প্রেম করেন এবং এই বিষয়ে কোনো ধরনের গোপনীয়তা রাখেন না।
সাবিকুন নাহার সারাহ বলেন, ‘তিনি মাশাআল্লাহ, সেন্টারে কাজ থাকায় রাত তিনটায় বাসায় আসেন, কিন্তু এ সময়ও তার প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি যা-ই করেন, তা গোপন রাখেন না, কারণ উস্তাদই সবথেকে বড়।’
শনিবার সকালে (১১ অক্টোবর) সাবিকুন নাহার সারাহ ফেসবুকে এই বিষয়টি প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, রংপুরের আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানকে নিয়ে এর আগে গত ২ অক্টোবর রাতে স্ত্রী একই ধরনের পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্টটি ঘিরে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনার ঝড়। পরে ৬ অক্টোবর উস্তাদ নিজেই ফেসবুকে ওই পোস্টের প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দেন। পরবর্তীতে সেই পোস্ট সরিয়ে দেন স্ত্রী এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তবে শনিবার সকালে পুনরায় এ বিষয়ে পোস্ট করার ফলে বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। সাবিকুন নাহার সারাহ তার পোস্টে লিখেছেন:
‘এয়ার হোস্টেসদের মেবি সেলিব্রিটি পছন্দ, আর সেলিব্রিটিগণও মেবি এয়ার হোস্টেস ডিজার্ব করে। আপনাদের উস্তাদ Abu Taw Haa Muhammad Adnan প্রেমে মজেছেন জারিন জেবিন নামক তার ১৫ বছর আগের কলেজ লাইফের প্রিয়তমা, যিনি বর্তমানে এয়ার হোস্টেস। তখন উস্তাদ তাকে তীব্রভাবে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিবারের আর্থিক অযোগ্যতার কারণে বিয়েতে বাধা ছিল। এখন আবার জারিন জেবিন, যিনি ভদ্রমহিলা এবং বর্তমান সময়ে এয়ার হোস্টেস, উস্তাদকে চাচ্ছেন।
পুরোনো প্রেম নতুন রূপে ফিরে এসেছে। উস্তাদ এবং তার প্রেমিকা নিয়মিত চ্যাট বক্সে ফিলিংস আদান-প্রদান করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তারা ফোনে কথা বলেন, আবার যিন্নুরাঈন সেন্টারে বসে বসে সময় কাটান। উস্তাদ লং ড্রাইভে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং সেন্টারে এসে অফিসরুমে সাক্ষাৎ করেন।’
সাবিকুন নাহার সারাহ আরও উল্লেখ করেন, ‘উস্তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত আপনারা দেওয়া টাকার ওপর চলে এবং বিভিন্ন আয়োজন ও ক্লাসের নামে যে কোনো নারীর সঙ্গে একান্তে মিট করার সুযোগ তৈরি করে। সেখানে নারী-পুরুষ একসঙ্গে কো-এডুকেশন ক্লাস নেয়। যে বিষয়টি উস্তাদ স্বীকার করেন না এবং বিরোধিতা করেন, সেই একই ক্ষেত্রে তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবাধ মেলামেশার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন কোর্সের ক্লাসের নামে মেয়েদের সঙ্গে সরাসরি বসে আলোচনা করা হয়, বেটার থেকে বেস্ট কাউকে বেছে নেওয়া হয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সব বিষয় নিয়ে আমি উস্তাদের কাছে বিষয়গুলো নিয়ে আসার চেষ্টা করলে, আমাকে তার আশপাশের সবার কাছে সবচেয়ে জঘন্য হিসেবে দেখানো হয়। তিনি নিজে চিৎকার করে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং নানা ধরনের তোহমত চাপিয়ে দেন। যাই হোক, উস্তাদ যা-ই করেন, তা গোপন রাখেন না, কারণ তিনি নিজেই সবচেয়ে বড়।’
এদিকে সাবিকুন নাহার সারাহ জানিয়েছেন, এয়ার হোস্টেস জারিন জেবিনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের আগে রংপুরের আরেক নারী, যিনি কোনো এক ওমরাহ প্রতিযোগিতার স্টুডেন্ট এবং আলেমা, তার সঙ্গে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন উস্তাদ। তিনি বলেছিলেন, ওই মেয়েকে ইফতা পড়াবেন, দ্বীনের কাজ করবেন এবং বিয়ে করবেন। কিন্তু পরে জারিন জেবিনকে পাওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সেই আলেমা মেয়েকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। এরপর ওই মহিলা উস্তাদের প্রেমে মগ্ন হয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন এবং উস্তাদও বিয়ে করলে তাকে বেছে নেবেন বলে আশ্বাস দেন।
খবরওয়ালা/এন