খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার কৃষকরা এখন গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। টানা বৈরী আবহাওয়া, অতিবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে মাঠজুড়ে পাকা সোনালি আমন ধান পড়ে গেছে মাটিতে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার অসংখ্য কৃষক। পরিশ্রমে ঘাম ঝরিয়ে ফলানো ফসল নষ্ট হয়ে যেতে দেখে তারা এখন হতাশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিন ধরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি। এর প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানক্ষেতে পানির স্তর বেড়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় ধানের গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
১ নম্বর বোয়ালদাড় ইউনিয়নের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, “ধান কাটা শুরু করতেই এমন আবহাওয়া দেখা দিল। বাতাসে ধান পড়ে গেছে মাটিতে, এখন কেটে ঘরে তোলা খুব কষ্টের। শ্রমিক খরচও বেড়ে যাবে, তবুও ঠিকভাবে শুকাতে পারছি না।”
একই এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, “যদি দ্রুত রোদ না ওঠে, তাহলে কাটা ধান শুকানো সম্ভব হবে না। ভেজা অবস্থায় ঘরে তুললে ধান পচে যাবে, রঙ নষ্ট হবে, পরে বাজারে কেউ কিনবে না।”
কৃষক শুভ জানান, “এই এক মৌসুমের ধান বিক্রি করেই আমরা পরিবারের খরচ চালাই ও ঋণ পরিশোধ করি। কিন্তু এবারের আবহাওয়ার কারণে সেই আশা ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে বড় ঋণের বোঝা পড়বে আমাদের ঘাড়ে।” তিনি আরও বলেন, “এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়ে সেই ধানই এখন নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে নিচু জমির ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন যাতে তারা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন।
কৃষকদের আশঙ্কা, যদি আবহাওয়া আরও কয়েকদিন খারাপ থাকে, তবে ধানের গুণগত মান নষ্ট হবে এবং বাজারে ভালো দামও মিলবে না। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—আকাশ পরিষ্কার হয়ে সূর্যের আলো ফিরে আসুক। কারণ রোদেলা দিনের অপেক্ষাতেই নির্ভর করছে তাদের সারা বছরের পরিশ্রমের ফল ও পরিবারের ভবিষ্যৎ।
খবরওয়ালা/টিএসএন