খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে চীন বলছে ‘আত্মরক্ষায় সক্ষম’তাইওয়ান দ্বীপের কাছে মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করতে পারে জাপান, এমন সম্ভাবনার পর চীন জানিয়েছে, তারা নিজেদের ভূখণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংকল্পবদ্ধ এবং সক্ষম।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘জাতীয় আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্প এবং ক্ষমতা চীনের রয়েছে।’
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইয়োনাগুনি দ্বীপে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিষয়ে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বেইজিং থেকে এই বক্তব্য এসেছে। মাও বলেন, ১৯৪৫ সালের পটসডাম ঘোষণার আলোকে টোকিওকে প্রতিরক্ষামূলক কৌশল অনুসরণ করতে হবে এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অধিকার নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান তার নিরাপত্তা নীতি সংশোধন করেছে, ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি করেছে, অস্ত্র রপ্তানির বিধিনিষেধ শিথিল করেছে এবং আক্রমণাত্মক অস্ত্রের উন্নয়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, টোকিওর কিছু রাজনৈতিক শক্তি সামরিকীকরণের পথ অনুসরণ করছে, যা জাপান এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জন্য বিপদজনক। মাও নিং স্মরণ করিয়ে দেন, এই বছর জাপানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনা গণ-প্রতিরোধ যুদ্ধে ৮০ বছর পূর্ণ এবং জাপানি দখল থেকে তাইওয়ান মুক্তির ৮০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।
মাও জোর দিয়ে বলেন, চীন জাপানের অতিসংরক্ষণবাদী শক্তিকে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতির বিপরীত’ করতে দেবে না এবং তাইওয়ান বা জাপানি সামরিকবাদের পুনরুজ্জীবনে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না।
তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানিয়েছিলেন, ইয়োনাগুনি দ্বীপে আত্মরক্ষা বাহিনীর গ্যারিসনে মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা ‘ত্যাগ করা হয়নি’। নতুন প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচিও মন্তব্য করেছেন, তাইওয়ানের আশেপাশে সম্ভাব্য সামরিক সংকট জাপানের জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ তৈরি করতে পারে।
১৯৪৯ সাল থেকে তাইওয়ান স্বাধীনভাবে শাসিত, যেখানে কুওমিনতাং বাহিনী চীনের গৃহযুদ্ধ হারার পর পালিয়ে আসে। বেইজিং তাইওয়ানকে চীনের একটি প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে।
খবরওয়ালা /এসএস