খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক, যেগুলো অনেক দিন ধরেই আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত, মর্জার মাধ্যমে একীভূত হওয়ার পথে। এই পাঁচটি ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোসিয়াল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক—এখন চরম আর্থিক সংকটের মুখে, এবং তাদের একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে, এই একীভূতকরণের মূল শিকার হচ্ছেন ব্যাংকগুলোর কর্মচারীরা, যাদের বেতন এবং সুবিধায় বড় ধরনের কাটছাঁট হবে।
এই ব্যাংকগুলো প্রায় ১৬,০০০ কর্মচারী নিয়ে কাজ করছে, এবং কর্মচারীরা এখন চিন্তিত যে, তাদের বেতন কমিয়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এদের বেতন এবং অন্যান্য সুবিধার উপর কাটা করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকট কমানো যায়। এই পাঁচটি ব্যাংক প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছিল, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাত্র ৩৫০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে, যা শুধুমাত্র কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য ব্যয় করা হবে।
কর্মচারীদের মধ্যে, বিশেষ করে ইউনিয়ন ব্যাংকের কর্মচারীরা জানিয়েছেন যে, তারা তাদের বেতন পেলেও তা সহজে তুলতে পারছেন না। ব্যাংকগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তারা ডিপোজিটরের ফান্ড ব্যবহার করে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে উঠেছে, যেখানে তারা গত বছর বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। প্রথম সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক গত বছরে ৫,৪৫০ কোটি টাকার ক্ষতি করেছে এবং তাদের অপারেটিং ইনকাম ছিল নেতিবাচক ৪,৩০৮ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলোকে প্রায় ৩৫,৩০০ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করেছে, কিন্তু ব্যাংকগুলো এখনও সেই অর্থ ফেরত দিতে পারেনি। এই মর্জা প্রক্রিয়াটি যদি কার্যকর না হয়, তাহলে আগামীতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য মারাত্মক পরিণতি হতে পারে।