খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঝালকাঠি থেকে ঘটনার মূল সন্দেহভাজন, গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন, সোমবার সকালে বোরকা পরিহিত ওই নারী বাসায় প্রবেশ করে লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তার কন্যা নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)-কে হত্যা করেন। ঘটনার পরে তিনি স্কুল ড্রেস ও মাস্ক পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। নিহত নাফিসা মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবীমস স্কুলে পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পরিবারটি শাহজাহান রোডের ৩২/২ নম্বরের সাততলা ভবনে বসবাস করতেন।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, চার দিন আগে নিহতের বাড়িতে কাজে যোগ দেন ওই নারী এবং নিজেকে “আয়েশা” নামে পরিচয় দেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৭টার দিকে নাফিসার বাবা স্কুলে যাওয়ার পর ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরিহিত গৃহকর্মী বাসায় প্রবেশ করেন। দেড় ঘণ্টা পর, ৯টা ৩৬ মিনিটে স্কুল ড্রেস পরে তিনি বাসা থেকে বের হন। ১১টার দিকে বাবা বাসায় ফিরে এসে রক্তাক্ত স্ত্রী ও মেয়েকে দেখে হতবাক হন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সময় নাফিসা ডাইনিং রুমের ইন্টারকম ব্যবহার করে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তবে ব্যর্থ হন। এরপর ধস্তাধস্তির মধ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। বাড়ি তল্লাশি করে বাথরুমে দুটি ছুরি পাওয়া গেছে—একটি সুইচ গিয়ার ছুরি এবং একটি ফল কাটার ছুরি। ধারণা করা হচ্ছে, এ ছুরিগুলোর মাধ্যমে মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
পরিবারের কাছে থেকে জানা গেছে, আয়েশার পটভূমি সংকটপূর্ণ। তিনি রংপুরের গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবে তার বাবা-মা আগুনে মারা যান। বর্তমানে তিনি জেনেভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকতেন এবং শরীরে আগুনে পোড়ার ক্ষত রয়েছে।
শাহজাহান রোডের বহুতল ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বাসার ভেতরে রক্তের দাগ ছড়িয়ে আছে, আলমারি ও ভ্যানিটি ব্যাগ তছনছ, মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছেনা। পুলিশ বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র পরীক্ষা করছে এবং খোঁজ করছে ধস্তাধস্তির আরও কোনো আলামত আছে কি না।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।