খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
শনিবার বিকেলে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী কলকাতায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার দাবিতে ‘বাংলা পক্ষ’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজন করে। বিক্ষোভকারীরা প্রাথমিকভাবে বাগবাজার ও পার্ক সার্কাস এলাকার ব্যস্ততম সেভেন-পয়েন্ট ক্রসিংয়ে সমবেত হন। সেখান থেকে তারা হাইকমান্ডের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। তবে প্রায় ২০০ মিটার অতিক্রম করার পর পুলিশ ব্যারিকেডে আটকা পড়ে মিছিলটি।
সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কিছু বিক্ষোভকারীর সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, দূতাবাসের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই শক্তভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যাতে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে না পারে। বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে গেছে এবং কোনো গুরুতর অঘটনের খবর পাওয়া যায়নি।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা ও বৈষম্যের ঘটনা তুলে ধরেন। তারা ভারতের সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের মানবিক ভূমিকার উল্লেখ করে তারা মনে করিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একটি প্রগতিশীল পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
‘বাংলা পক্ষ’-এর নেতা গার্গ চ্যাটার্জী সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আমরা কেবল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি। কোনও ধরনের সহিংসতা বা ধ্বংসের উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের উচিত এই সংবেদনশীল সম্প্রদায়ের জটিল পরিস্থিতি স্বীকার করা এবং সহায়তা করা।”
বিক্ষোভকারীরা হাতে ব্যানার ও প্লাকার্ড ধারণ করে, যেখানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হওয়া সহিংসতা, বৈষম্য এবং নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে। পথচারী এবং স্থানীয়রা আগ্রহ ও সমর্থনের সঙ্গে বিক্ষোভটি পর্যবেক্ষণ করেন। পুলিশ সজাগভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
সংগঠনটির মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা একটি তাত্ক্ষণিক এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা অবিলম্বে সমাধানের দাবি রাখে। এই শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ এবং মানবিক সহায়তা প্রাপ্তির আহ্বান জানিয়েছেন।