খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে পৌষ ১৪৩২ | ২৩ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বগুড়ায় এক লোটো শো-রুমের স্বত্বাধিকারীকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যবসায়ী পিন্টু আকন্দ (৩৫) ছিলেন নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আদমদীঘী উপজেলার কুমাড়পাড়া এলাকা থেকে অপহরণে ব্যবহৃত সাদা হায়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয় এবং সেই গাড়ি থেকে পিন্টুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৮ মিনিটে দুপচাঁচিয়া উপজেলার লোটো শো-রুমের সামনে একটি সাদা হায়েস মাইক্রোবাস থামে। গাড়ি থেকে মুখ ঢাকা চারজন দুর্বৃত্ত নেমে আসে। একজন আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে শো-রুমের ভিতরে ঢুকে ব্যবসায়ী পিন্টুকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে আনে। পরে তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে বগুড়া–নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে আদমদীঘী উপজেলার দিকে চলে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা দ্রুততার সঙ্গে পিন্টুকে গাড়িতে তুলে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মুখ ঢাকা ছিল এবং তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন জানান, “অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পিন্টু আকন্দ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তার অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের তৎপরতা সত্ত্বেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কিছু সূত্রের দাবি, হত্যার পেছনে অর্থ সংক্রান্ত বা প্রতিশোধের কারণ থাকতে পারে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | পিন্টু আকন্দ |
| বয়স | ৩৫ বছর |
| স্থায়ী ঠিকানা | রাণীনগর, নওগাঁ |
| অপহরণের এলাকা | দুপচাঁচিয়া, বগুড়া |
| গাড়ির ধরন | সাদা হায়েস মাইক্রোবাস |
| অপহরণকারী সংখ্যা | ৪ জন |
| মরদেহ উদ্ধার | আদমদীঘী, কুমাড়পাড়া এলাকা |
| পুলিশ অভিযান | কয়েকজন আটক, বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার চলছে |
| ময়নাতদন্ত | বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
বগুড়ার এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন দ্রুত তৎপরতা দেখাচ্ছে, কিন্তু অপরাধের প্রকৃত কারণ এবং সমস্ত জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলমান। ময়নাতদন্ত ও পুলিশি অনুসন্ধানই পরিস্থিতি স্পষ্ট করার মূল চাবিকাঠি।