খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে সীমানা নির্ধারণের অভাব কুতুবদিয়ার জেলেদের জন্য নিরাপত্তাজনিত সমস্যার সৃষ্টি করছে। ঘন কুয়াশা এবং অরক্ষিত সাগর সীমানার কারণে বহু জেলে ভুলবশত ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করছেন এবং নিয়মিতভাবে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছেন।
স্থানীয় জেলে ও তাদের পরিবার অভিযোগ করেছেন, সীমানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বয়া স্থাপন, প্রতিটি ট্রলারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিয়মিত টহলজাহাজ মোতায়েন করলে দেশীয় জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরতে পারবেন। এতে ভুলবশত ভারতের সীমানায় প্রবেশ ও হয়রানি কমানো সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে প্রায় ৮০ জন কুতুবদিয়ার জেলে ভারতের জেল হেফাজতে পড়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা: ১৭ নভেম্বর, ১৯ নভেম্বর, ১ ডিসেম্বর ও ১৭ ডিসেম্বর বিভিন্ন ফিশিং ট্রলারে জেলেরা আটক হন।
জেলেরা জানিয়েছেন, সাগরের পানির গভীরতা ও ট্রলারের চলার সময় হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ–ভারতের সীমানা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবিক পরিস্থিতিতে পানি ওঠানামা, ঘন কুয়াশা এবং বৃষ্টির কারণে সঠিক পরিমাপ সম্ভব হয় না। পাশাপাশি, ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়শই বাংলাদেশের জলসীমার ভেতর প্রবেশ করে জেলেদের আটক করে থাকে।
উপজেলা মৎস্যজীবি ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শুধুমাত্র তিন–চার কিলোমিটার অন্তরে সীমানার বয়া স্থাপন করলে সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। প্রতিটি ট্রলারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা বলেন, “সাগরে সীমানার সঠিক ধারণা না থাকায় জেলেরা ভুলবশত ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ভারতের কাকদ্বীপের কাছে বাংলাদেশের সীমানায় জেলেদের সতর্কতা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করলে ভবিষ্যতে আটক ও হয়রানি রোধ করা সম্ভব।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জেলেদের সংখ্যা আটক | প্রায় ৮০ জন |
| উল্লেখযোগ্য তারিখ | ১৭ নভেম্বর, ১৯ নভেম্বর, ১ ডিসেম্বর, ১৭ ডিসেম্বর |
| সমস্যার মূল কারণ | সীমানা নির্ধারণে ঘাটতি, ঘন কুয়াশা, অরক্ষিত সীমানা |
| সমাধানের প্রস্তাব | সীমানায় বয়া স্থাপন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, টহলজাহাজ বৃদ্ধি |
| প্রভাবিত এলাকা | কুতুবদিয়া ও কাকদ্বীপের নিকটবর্তী সাগর |
জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার অপরিহার্য। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন, সঠিক সীমানা চিহ্নিত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের হতাশাজনক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।