খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সিরিয়ায় সম্প্রতি একাধিকবার যৌথভাবে মার্কিন বিমান ও সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। এই হামলা আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট) সংস্থার বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। এ অভিযান মূলত গত বছরের একটি ঘটনায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষীর নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন সেন্টকম শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিরিয়ায় আইএসআইএলের ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অভিযানে অত্যাধুনিক নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে সংগঠনটির অস্ত্রভাণ্ডার ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। সেন্টকমের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ওপর ‘অব্যাহত সামরিক চাপ’ বজায় রাখতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমিরার কাছে আইএসআইএল হামলার সময় তিনজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। নিহতরা হলেন সার্জেন্ট এডগার ব্রায়ান তোরেস-তোভার, সার্জেন্ট উইলিয়াম নাথানিয়েল হাওয়ার্ড এবং বেসামরিক দোভাষী আয়াদ মনসুর সাকাত। এই ঘটনায় প্রতিশোধ হিসেবে শুরু করা ‘অপারেশন হকআই’ অভিযানে দুই মাসের মধ্যে ৫০-এরও বেশি আইএসআইএল যোদ্ধা নিহত বা আটক হয়েছে। এসময়ে প্রায় ১০০টি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোট সম্প্রতি সিরিয়ার হাজারো আইএসআইএল বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করেছে। বাগদাদের অনুরোধে তাদের বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোট এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
অপরদিকে, সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আল-তানফ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারি বাহিনীর হাতে এসেছে। বহু বছর ধরে আইএসআইএলবিরোধী লড়াইয়ে এই ঘাঁটি ব্যবহার করছিল মার্কিন বাহিনী।
২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএসআইএলের আঞ্চলিক পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোট কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সের (এসডিএফ) সঙ্গে কাজ করেছিল। তবে বর্তমানে ওয়াশিংটন সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে, এসডিএফের সঙ্গে যৌথ অভিযান অনেকটাই শেষ হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
| তারিখ | অভিযান/হামলা | লক্ষ্যবস্তু সংখ্যা | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| ৩-১২ ফেব্রুয়ারি | মার্কিন বিমান হামলা | ৩০+ | অস্ত্রভাণ্ডার ও অবকাঠামো ধ্বংস |
| ডিসেম্বর ২০২৫ | পালমিরা হামলা প্রতিশোধ | ১০০+ | ৫০+ যোদ্ধা নিহত বা আটক |
| সাম্প্রতিক | আইএসআইএল বন্দি স্থানান্তর | হাজারো | ইরাকে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য স্থানান্তর |
এই ধারাবাহিক অভিযান মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইএসআইএলের অবশিষ্ট শক্তি দুর্বল করার পাশাপাশি সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও নিরাপত্তা বজায় রাখার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।