খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন বাতিঘর কেপ ব্রুনি লাইটহাউসের ল্যান্টার্ন কক্ষে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে গিয়ে ১২২ বছর আগের একটি ‘বোতল বার্তা’ খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিত্রশিল্পী ব্রায়ান বারফোর্ড। ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত এ বাতিঘরের একটি ক্ষয়ে যাওয়া দেয়ালের ভেতর অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করে খনন করলে একটি কাচের বোতলের সন্ধান পান তিনি। বোতলের ভেতরে ছিল হাতে লেখা দুই পাতার একটি চিঠি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, চিঠিটি লেখা হয়েছিল ১৯০৩ সালের ২৯ জানুয়ারি। লেখক জেমস রবার্ট মিচ তৎকালীন হোবার্ট মেরিন বোর্ডের লাইটহাউস পরিদর্শক ছিলেন। তিনি চিঠিতে বাতিঘরের বড় ধরনের সংস্কারের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন—কাঠের সিঁড়ির পরিবর্তে লোহার পাকানো সিঁড়ি স্থাপন, নতুন কংক্রিটের মেঝে তৈরি, ল্যান্টার্ন কক্ষের আধুনিকায়নসহ বেশ কিছু উন্নয়নকাজের কথা সেখানে উঠে এসেছে।
চিঠিতে আলো জ্বালানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখের পাশাপাশি মিচ প্রকল্পে জড়িত কর্মীদের নাম এবং খরচের পরিমাণও লিখেছেন। ব্যয় হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ২ হাজার ২০০ পাউন্ড, যা বর্তমানের হিসাবে প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পৌনে চার কোটি টাকার বেশি।
তাসমানিয়া পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক আনিতা ওয়াগহোর্ন জানান, ‘চিঠিটি যখন খুঁজে পাওয়া গেল, তখন পুরো কক্ষজুড়ে এক ধরণের রোমাঞ্চ ছড়িয়ে পড়ে।’ পরে তাসমানিয়ান মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্ট গ্যালারির সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা চিঠিটি আর্দ্রতা প্রয়োগ করে সাবধানে সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত করেন। ভবিষ্যতে এটি জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে, যদিও এখনও কোনো নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারিত হয়নি।
উল্লেখ্য, কেপ ব্রুনি লাইটহাউস ১৮৩৮ সালে চালু হয় এবং ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বিপজ্জনক জলপথে জাহাজ চলাচলে দিকনির্দেশনার কাজ করেছে। ১৯৯৬ সালে বাতিঘরটি বন্ধ করে কাছেই সৌরশক্তিচালিত একটি নতুন বাতিঘর স্থাপন করা হয়। স্থানীয় ইতিহাসবিদরা এই ‘বোতল বার্তা’ আবিষ্কারকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লাইটহাউস-সংক্রান্ত খোঁজ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
খবরওয়ালা/এন