খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। তবে এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজটের প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে ২০৭টি স্থানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ঈদুল ফিতরে এই সংখ্যা ছিল ১৫৯টি; অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে যানজটপ্রবণ স্পট বেড়েছে ৪৮টি। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে এবার সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ঈদযাত্রা সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, ঈদের মাত্র ২ থেকে ৩ দিনের ব্যবধানে ঢাকা ছাড়বেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। এত বিশাল জনস্রোতের চাপ সামলানো পরিবহন খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
হাইওয়ে পুলিশের চিহ্নিত করা ২০৭টি স্পটের মধ্যে উত্তরবঙ্গ ও সিলেটগামী মহাসড়কগুলোতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি দেখা গেছে। নিচের টেবিলে মহাসড়ক অনুযায়ী যানজটপ্রবণ স্থানের সংখ্যা তুলে ধরা হলো:
| মহাসড়কের নাম | চিহ্নিত যানজটপ্রবণ স্থানের সংখ্যা |
| ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক | ৫৫টি |
| ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক | ৪৫টি |
| ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক | ৪৩টি |
| ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক | ২১টি |
| ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক | ১৪টি (প্রতিটিতে) |
| ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়ক | ৯টি |
| যশোর-খুলনা মহাসড়ক | ৬টি |
| সর্বমোট | ২০৭টি |
সংবাদ সম্মেলনে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, নিবন্ধিত শ্রমিক বা মালিক সমিতি যদি তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করে, তবে তাকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। তবে এই সংজ্ঞার বাইরে কোনো অনৈতিক অর্থ আদায় করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঈদযাত্রায় বাসের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল করা হবে। যদিও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসি বাসের ভাড়া সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না, যার সুযোগ নিয়ে মালিকরা প্রায়ই দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেন।
সরকার ঈদযাত্রা সহজ করতে বেশ কিছু কঠোর ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ: ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে (জরুরি সেবা ব্যতীত)।
সিসিটিভি ও ড্রোন মনিটরিং: ঢাকার প্রধান পাঁচটি বাস টার্মিনাল এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো সিসিটিভি ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে।
বিআরটিসির বিশেষ সেবা: যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে বিআরটিসির স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু থাকবে।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় থাকবে।
পোশাক কারখানা ছুটি: শিল্পাঞ্চলের চাপ কমাতে পর্যায়ক্রমে বা ধাপে ধাপে পোশাক কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পরিশেষে, ২০৭টি যানজটপ্রবণ স্থানে হাইওয়ে পুলিশের বিশেষ টহল এবং মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গতবারের তুলনায় এবার যাত্রা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক হবে।