খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজশাহীর নগর ও গ্রামীণ এলাকা কনকনে শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ক্রমশ কমছে, হিম বাতাসের সঙ্গে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষরা, যাদের দৈনন্দিন জীবনের নিয়ন্ত্রণ কেবল কঠোর পরিশ্রমের ওপর নির্ভরশীল।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রোববার, ২১ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.২°সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
| তারিখ | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (°সেলসিয়াস) | আর্দ্রতা (%) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১১ ডিসেম্বর | ১২.০ | – | মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা |
| ১৩ ডিসেম্বর | ১২.০ | – | আগের রেকর্ডের সমতুল্য |
| ১৯ ডিসেম্বর | ১৫.২ | – | পূর্ববর্তী দিন |
| ২০ ডিসেম্বর | ১৪.৬ | ৯৮ | সকাল ৬টায় রেকর্ড |
| ২১ ডিসেম্বর | ১৩.২ | ৯৬ | সর্বশেষ রেকর্ড |
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা ১০°সেলসিয়াসের ওপরে থাকলেও বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে যায়। এ কারণে রাস্তায় কাজ করা মানুষের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
কাদিরগঞ্জ এলাকার নির্মাণ শ্রমিক রফিকুল ইসলাম জানান, “এই কনকনে শীতে কাজে আসা খুব কষ্টকর। বাতাস থাকায় ঠান্ডা আরও তীব্র মনে হয়। তারপরও কাজ না করলে পরিবার ক্ষুধার্ত থাকবে।”
অন্যদিকে, গৃহকর্মী মাসুমা খাতুন বলেন, “সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করা অত্যন্ত কষ্টকর। ঠান্ডার কারণে পানিতে হাত দেওয়া যায় না। তবুও জীবনের তাগিদে কাজ চালিয়ে যেতে হয়।”
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, এই শীতের প্রবণতা আগামী দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য।
শীতের এমন প্রকোপে নগরীর রাস্তাঘাটে লোকজন কম বের হচ্ছে, বিদ্যালয় ও অফিসেও কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য দৈনন্দিন জীবন তীব্র কষ্টের মুখোমুখি। শহরের কনকনে হিম বাতাস যেন জানিয়ে দিচ্ছে, প্রকৃত শীত এখনও শীতলতার পরাক্রমে নগরকে জড়িয়ে ধরবে।