খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল ‘দ্বীপ’ ইউনিয়নের মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা নুরুল হক (নুর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই যুবকের রাজনীতিতে উত্থান সহজ ছিল না। তিনি নির্বাচনের পথে অসংখ্য বাধা, হামলা এবং মামলা মোকাবিলা করেছেন।
নুরুল হকের জন্ম চরবিশ্বাস ইউনিয়নের একটি সাধারণ পরিবারে। বাবা ইদ্রিস হাওলাদার সাবেক ইউনিয়ন সদস্য। মা নিলুফা বেগম নুরের বয়স মাত্র আড়াই বছর বয়সে মারা যান। তিনি তিন ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে চতুর্থ। প্রাথমিক শিক্ষাপ্রাপ্তি চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত হয়।
গ্রাম থেকে শহরের দিকে যাত্রা শুরু হয় নুরের অষ্টম শ্রেণিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গোলাম নবী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে। ২০১০ সালে তিনি এসএসসি, ২০১২ সালে উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এক বছর পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার পর ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।
২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়ে নুর দেশব্যাপী পরিচিত হন।
নুরুল হক ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে। একই বছর বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
২০২৩ সালের ১০ জুলাই দলটির একাংশের কাউন্সিলে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া, ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। সমাবেশ চলাকালীন সহকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন এবং পরে মামলা হয়।
নুরুল হক দীর্ঘ রাজনীতিক জীবনে একাধিক হামলা ও মামলা মোকাবিলা করেছেন। ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে গুরুতর আহত হয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে হয়। ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৮ বার হামলার শিকার হয়েছেন।
| সাল | ঘটনা | আহত/মামলা |
|---|---|---|
| ২০১৯ | ডাকসু নির্বাচনের সময় সহকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ | আহত, ২৪ ডিসেম্বর মামলা |
| ২০১৯ | ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে হামলা | গুরুতর আহত |
| ২০২৩ | ছাত্র অধিকার পরিষদের সমাবেশে হামলা | ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা |
| ২০২৪ | কোটাবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার | ৫ দিনের রিমান্ড ও কারাভোগ |
| ২০২৫ | জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে অবস্থান | গুরুতর আহত, বিদেশে চিকিৎসা |
নুরুল হক বিবাহিত। স্ত্রী মারিয়া আক্তার একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সংসারে তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে।
নুরের বাবা ইদ্রিস হাওলাদার বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল ছেলে চিকিৎসক হবে। কিন্তু রাজনৈতিক পথে যাত্রা শুরু করলে তার জন্য বহু রাত আমি ঘুমাতে পারিনি। যে সমস্ত হামলা-মামলার মধ্যে দিয়েই সে এমপি নির্বাচিত হয়েছে, সেটা আমার কল্পনাতেও ছিল না।”
নুরুল হকের জীবনের গল্প এক সাধারণ চর থেকে শুরু হয়ে দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন প্রতিষ্ঠানে অবস্থানের অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।