খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে চৈত্র ১৪৩২ | ৬ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ছাত্রদলের এক নেতার জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপন ও নারী সেজে টিকটক করার অভিযোগে বহিষ্কারের ঘটনাটি বর্তমানে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদল কর্তৃক সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে বহিষ্কারের পর থেকেই এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে সংগঠনের অভিযোগ যে তিনি লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন, অন্যদিকে রেদোয়ানের দাবি এটি স্রেফ অভিনয় ও গুজব।
সম্প্রতি কসবার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের কমিটিকে সম্প্রসারণ করে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। নবগঠিত এই কমিটিতে সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ পান রেদোয়ান ইসলাম। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে তার নারী বেশে করা বিভিন্ন টিকটক ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবি সামনে আসে। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয় যে তিনি লিঙ্গ পরিবর্তন করে নারী হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। ফলশ্রুতিতে, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কারের আদেশ আসার পর রেদোয়ান ইসলাম তার ফেসবুক আইডি ‘রিহিয়া রিহি’ থেকে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেন যে, তিনি ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া নন। নিজেকে একজন সম্পূর্ণ পুরুষ এবং ‘সংস্কৃতিকর্মী’ হিসেবে দাবি করে তিনি জানান, স্রেফ বিনোদনের উদ্দেশ্যে এবং অভিনয়ের খাতিরে তিনি নারী বেশে কিছু কনটেন্ট তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেন:
“আমি একজন সংস্কৃতিকর্মী এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। স্রেফ কনটেন্ট তৈরির খাতিরে কিছু ভিডিও করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন তবে আমি ক্ষমা প্রার্থী। আমি ইতিমধ্যে সেই ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলেছি।”
রেদোয়ানের পিতা জাহাঙ্গীর আলম এই ঘটনাকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তার ছেলে ছেলে হিসেবেই জন্ম নিয়েছে এবং বড় হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, রেদোয়ান ঢাকায় কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে যুক্ত হয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি করত যা পরিবারের কেউ পছন্দ করত না। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় রেদোয়ান আত্মগোপনে রয়েছেন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ব্যক্তির নাম | রেদোয়ান ইসলাম (ফেসবুক নাম: রিহিয়া রিহি) |
| পদবি | সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় ছাত্রদল |
| মূল অভিযোগ | জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপন ও লিঙ্গ পরিবর্তনের গুজব |
| সংগঠনের ব্যবস্থা | স্থায়ী বহিষ্কার (৫ এপ্রিল ২০২৬) |
| রেদোয়ানের দাবি | তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন, স্রেফ অভিনয়ের জন্য নারী সেজেছিলেন |
| পারিবারিক অবস্থান | ঘটনাটি গুজব বলে দাবি এবং টিকটক করার জন্য অসন্তোষ প্রকাশ |
এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্রদলের জেলা নেতৃবৃন্দের মতে, রাজনৈতিক পদধারী একজন ব্যক্তির জনসমক্ষে উপস্থাপনা মার্জিত ও প্রশ্নাতীত হওয়া উচিত। তথ্য গোপনের অভিযোগটি এখানে মুখ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, নেটিজেনদের একটি বড় অংশ মনে করছে, অভিনয় বা শখের বসে করা কোনো কাজকে জেন্ডার পরিবর্তনের সাথে গুলিয়ে ফেলা অযৌক্তিক। আবার কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ভিডিও শেয়ার করা দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।
বর্তমানে রেদোয়ান ইসলামের লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হলেও, তিনি নিজে এবং তার পরিবার বিষয়টিকে ‘গুজব’ এবং ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবেই দেখছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।