খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
বিশ্বে প্রথমবারের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিতে থাকা জনগণের জন্য ‘জলবায়ু ভিসা’ চালু করেছে অস্ট্রেলিয়া। ভিসাটি প্রাপ্তদের স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে এ কর্মসূচির আওতায় প্রথমবারের মতো আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তা বেশ সাড়া ফেলেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র টুভালুর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি নাগরিক ইতিমধ্যে এই ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। শুধুমাত্র টুভালুর নাগরিকরাই আপাতত এই বিশেষ শ্রেণির ভিসার জন্য আবেদন করতে পারছেন।
গত ১৬ জুন আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। ২৭ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ১২৪টি আবেদন জমা পড়েছে, যা পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ৪ হাজার ৫২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে। অথচ দ্বীপরাষ্ট্র টুভালুর মোট জনসংখ্যা মাত্র ১০ হাজার ৬৪৩ জন (২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)। আবেদন গ্রহণ চলবে ১৮ জুলাই পর্যন্ত। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে প্রতি বছর র্যান্ডম পদ্ধতিতে মাত্র ২৮০ জনকে এই ভিসা দেওয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র বিভাগ বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র পাঁচ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত টুভালু জলবায়ু হুমকির মুখে থাকা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এই ভিসা কর্মসূচিকে তারা জলবায়ু-সম্পর্কিত বাস্তুচ্যুতির হুমকির প্রতি একটি ‘যুগান্তকারী’ প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে। নতুন ভিসা প্রাপ্তদের অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে, থাকবে অবাধ যাতায়াতের সুযোগও। এছাড়া সরকারিভাবে সহায়তা হিসেবে থাকবে মেডিকেয়ার, শিশু যত্ন ভর্তুকি এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের মতো সুবিধায় পড়াশোনার সুযোগ।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে অস্ট্রেলিয়া খরচও কমিয়ে এনেছে। ২০২৫ সালের আবেদনকারীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশমূল্য মাত্র ২৫ অস্ট্রেলীয় ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন ভিসা ‘প্যাসিফিক এনগেজমেন্ট ভিসা’ নামে পরিচিত, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ঘোষিত অস্ট্রেলিয়া-টুভালু ‘ফ্যালেপিলি ইউনিয়ন’-এর অংশ। এই চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়া টুভালুকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জনস্বাস্থ্য সংকট কিংবা সামরিক আগ্রাসনের মতো হুমকির বিরুদ্ধে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
টুভালুর প্রধানমন্ত্রী ফেলেতি তেও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এমন একটি দেশ এগিয়ে এসেছে যারা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি সত্ত্বেও টুভালুর ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রত্ব ও সার্বভৌমত্বকে আইনিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
খবরওয়ালা/এন