খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভোটের আগেই রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য শহরে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা যাচ্ছে। মিরপুরের পোশাক কারখানার কর্মী তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার সকাল থেকেই গ্রামের বাড়ি তাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কিন্তু মহাখালী বাস টার্মিনালে সিটের জন্য দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, “কারখানা ছুটি হওয়ায় পরিবার নিয়ে যাচ্ছি। অনেক বছর ভোট দিতে পারিনি, এবার নিজের ভোট দিতে চাই।”
সরকারি নির্দেশে মঙ্গলবারই দেশের শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বুধ ও বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি থাকায়, শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ঢাকাসহ শিল্পাঞ্চল গরমাচ্ছে দীর্ঘ ছুটির প্রস্তুতিতে। ফলে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী চাপ বাড়ছে।
শপিংমল ও বাজারও বন্ধ হওয়ার আগে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকার পান্থপথ এলাকার বাসিন্দা শিরিন সুলতানা বলেন, “দোকানদাররা গ্রামে চলে গেছে, গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ। তাই বাড়তি কেনাকাটা করেছি।”
নিম্নে ভোটের দিন বন্ধ বা সীমিত থাকবে এমন সেবাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| সেবা | সীমাবদ্ধতা / বন্ধের সময়কাল | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মোবাইল ব্যাংকিং | ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেন বন্ধ | বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট সেবা বন্ধ |
| দোকানপাট ও শপিংমল | ১২-১৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) | পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান ও সবজি বাজার খোলা থাকবে |
| যান চলাচল | মোটরসাইকেল: ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত; পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ: ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা | জরুরি সেবা ও বিমানবন্দর যানবাহন ছাড়া সব বন্ধ |
| পর্যটন কেন্দ্র | নির্বাচনী এলাকায় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত | পূর্ব নির্ধারিত প্যাকেজ বন্ধ, পরের দিন থেকে কার্যক্রম চালু |
এছাড়া, নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যাংক গ্রাহকদের দৈনিক নগদ লেনদেন এক লাখ টাকার বেশি করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত মূলত অবৈধ অর্থ লেনদেন রোধ ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে।
জরুরি সেবা যথারীতি চালু থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, ডাক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সচল থাকবে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
নির্বাচনের সময় সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদেশগামী যাত্রী, সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কেউ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এছাড়া, ট্রান্সপোর্ট ও বাজারে সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা সতর্ক রয়েছেন।