খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি লিগে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান আবারও জোরালো পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন। প্রথম ছয় ম্যাচে ধারাবাহিক উইকেট নেওয়ার পর সপ্তম ম্যাচে তিনি মাত্র ৪ বলের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুবাই ক্যাপিটালস ১৫৬ রানে গালফ জায়ান্টসকে অলআউট করে, হাতে ৪ বল ও ৬ উইকেট রেখে জয়ের হাসি দেখেছে।
টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়া দুবাই ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী দ্বিতীয় ওভারেই বল তুলে দেন মোস্তাফিজের হাতে। প্রথমবারের মতো নতুন বল হাতে নেওয়া মোস্তাফিজে কিছুটা দেরি হলেও বলের কৌশল কাজে লাগিয়ে ১৩ রান দিয়ে উইকেট সংগ্রহ শুরু করেন।
মোস্তাফিজের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটগুলি:
১. প্রথম বলেই জেমস ভিন্সকে অফ কাটার ডেলিভারিতে ৩৪ বলে ৩৬ রান করার পর ক্যাচে আউট করেন।
২. পরবর্তী বলেই আজমতউল্লাহ ওমরজাই ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন, ২৬ বলে ৪৩ রান করে ব্যাটসম্যানকে বিদায় দেন।
৩. তৃতীয় উইকেট আসে শান ডিকসন থেকে, লেগ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে বেল ভেঙে যায়।
এই তিনটি উইকেট ৪ বলের মধ্যে নেওয়ায় ম্যাচের গতিপ্রবাহ মোস্তাফিজের দিকে ঘুরে যায়। ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে ওভার শেষে গালফ জায়ান্টসের স্কোর দাঁড়ায় ১১৬/৬।
১৮তম ওভারে মোস্তাফিজ আবারও বোলিংয়ে আসে, ১১ রান দিয়ে চতুর্থ উইকেটের সুযোগ পান, কিন্তু অধিনায়ক নবীর ক্যাচ ফেলার কারণে উইকেটটি যায়নি। এরপর ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে তিন ব্যাটসম্যানই রান আউট হয়ে যান। তবে এই তিনটি উইকেট মোস্তাফিজের নামে যায়নি।
মোস্তাফিজের বোলিং ফিগার:
৩.৫ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট। সাত ম্যাচে তার মোট উইকেট সংখ্যা ১৪, যা তাকে লিগের অন্যতম সফল বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নিচের টেবিলে মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেখানো হলো:
| ওভার | রান | উইকেট | গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা |
|---|---|---|---|
| ২য় | ১৩ | ০ | নতুন বল হাতে নেওয়া, শুরুতে কিছুটা রান খাওয়া |
| ১৪তম | ২০ | ৩ | ৪ বলের মধ্যে ৩ উইকেট, হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি |
| ১৮তম | ১১ | ০ | চতুর্থ উইকেটের সুযোগ, পরে ৩ রান আউট |
| মোট | ৩৫ | ৩ | ম্যাচসেরাও পারফরম্যান্স, দলের জয় নিশ্চিত |
মোস্তাফিজের কৌশল—অফ কাটার, লেগ স্টাম্প নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক ডেলিভারি—খেলোয়াড়দের উপর চাপে রেখেছে। তার ধারাবাহিক বোলিং এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেওয়া দলের জয়ে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
দলীয় অবদান:
অধিনায়ক নবী ও ব্যাটসম্যানরা সময়মতো রান যোগ করেছে।
ফিল্ডারদের সঠিক ক্যাচ ও রান আউটের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে অলআউট করেছে।
মোস্তাফিজের হটস্পট বোলিং ম্যাচের গতি ও ফলাফল পরিবর্তন করেছে।
মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স থেকে বোঝা যায়, তিনি কেবল উইকেটই নিচ্ছেন না, বরং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছেন, যা তাকে টি-টোয়েন্টি লিগের অন্যতম ‘কাটার মাস্টার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।