খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ১৭২ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ১৮ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দীর্ঘদিন পর দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরে এই নাগরিকদের চোখে-মুখে এক স্বস্তির ছায়া লক্ষ্য করা গেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল করা সম্ভব হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সরাসরি সহযোগিতা প্রদান করেছে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান।
ফিরে আসা এই বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশই সমুদ্রপথে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন। মানবপাচারকারীদের নানা লোভনীয় প্ররোচনা ও মিথ্যা আশ্বাসে তারা প্রথমে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন। এরপর সেখানে গিয়ে তারা এক চরম নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হন। ভুক্তভোগীদের অনেকেরই অভিযোগ, লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে তারা স্থানীয় অপরাধী চক্র ও মানবপাচারকারীদের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন তাদের ওপর চালানো হয়েছে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণ আদায়ের পর তাদের ফেলে দেওয়া হয়েছে ডিটেনশন সেন্টারে।
এমন বিপজ্জনক ও অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার যে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে, তা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সরকার। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ফিরে আসা এই নাগরিকদের অনুরোধ করেন, তারা যেন নিজেদের এই দুর্বিষহ ও তিক্ত অভিজ্ঞতা নিজ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে বিনিময় করেন। এতে করে অন্য কেউ যেন নতুন করে আর পাচারকারীদের খপ্পরে না পড়ে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেক বাংলাদেশিকে জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে। তাদের যাতায়াতের জন্য নগদ পথখরচা, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা এবং সাময়িকভাবে থাকার জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনও বহু বাংলাদেশি নাগরিক আটকে আছেন। তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।