খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—জকসু নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছয়জন আপিলের মাধ্যমে পুনরায় প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর ফলে নির্বাচনী মাঠে নতুন উদ্দীপনা ফিরেছে, পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. শেখ গিয়াসউদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জকসু ও হল সংসদের বিধিমালা অনুসারে নির্বাচন কমিশন ১৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। তাদের মধ্যে ১৫ জন আপিল করেন। আবেদনগুলোর বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন ছয়জনকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করে।
যেসব শিক্ষার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন—
মিঠুন চন্দ্র রায় (স্বতন্ত্র প্যানেল, সহসভাপতি/ভিপি)
মুগ্ধ আনন (মওলানা ভাসানী বিগ্রেড, ক্রীড়া সম্পাদক)
মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাঈম (অদম্য জবিয়ান ঐক্য, ক্রীড়া সম্পাদক)
হাসনান আল সাবিত (স্বতন্ত্র, কার্যনির্বাহী সদস্য)
মো. জাহিদুল ইসলাম রিফাত (স্বতন্ত্র, কার্যনির্বাহী সদস্য)
মো. শিহাব উদ্দীন হিফজু (স্বতন্ত্র, কার্যনির্বাহী সদস্য)
এদের মধ্যে বিশেষ মনোযোগ রয়েছে ভিপি প্রার্থী মিঠুন চন্দ্র রায়কে ঘিরে। মনোনয়ন বাতিলের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। আপিলে তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
জকসু নির্বাচনে ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ২৬৭ জন। পরে ২১টি পদের বিপরীতে ২১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই শেষে ১৭ জনের ফরম বাতিল করা হয়। এরপর ১৯৪ জনকে নিয়ে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত ভুল কিংবা অতি-সতর্কতার কারণে বাতিল করা হয়েছে। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে ‘অত্যধিক কঠোর’ বলেও আখ্যা দেন। তাদের আপিলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় যাচাই-বাছাই করে বিভিন্ন ডকুমেন্ট, নিয়ম এবং যোগ্যতার প্রমাণ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়।
নির্বাচন ঘিরে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছে অনেক দিন ধরেই। মনোনয়ন বাতিল হওয়া এবং পরে তা আবার বহাল হওয়া—এ দুই সিদ্ধান্তের ফলাফল নির্বাচনের শক্তির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভিপি এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদের প্রতিযোগিতা নতুন করে জমে উঠবে।
জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বলেন—
“প্রার্থিতা বাতিলের পর অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। সব আবেদন আমরা নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করেছি। যেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা বৈধতা পেয়েছেন।”
তার মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায্য রাখতে এই যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, আপিলে প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়া—নির্বাচনের প্রতি আস্থা বাড়াবে। রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, ছয় প্রার্থীর প্রত্যাবর্তন বিশেষ করে বাম জোট এবং স্বতন্ত্র প্যানেলকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
এখন প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচারণা শুরু হবে আরও জোরেশোরে। পোস্টারিং, ক্লাসরুম ক্যাম্পেইন, অনলাইন প্রচার—সব ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা তীব্র হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটাবে বলে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন।