খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধ্যয়নরত এক নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রশাসন ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সাবেক শিক্ষার্থীর সকল একাডেমিক সনদপত্র সাময়িকভাবে স্থগিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
লোক প্রশাসন বিভাগের ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম এস এম তারিকুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বীর প্রতীক তারামন বিবি হল এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভুক্তভোগীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে তার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রক্টর বরাবর বিচার চেয়ে আবেদন করার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শনিবার বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে একটি জরুরি প্রশাসনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অভিযুক্তের সনদ স্থগিতসহ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
নিচে গঠিত তদন্ত কমিটির কাঠামো ও সদস্যদের তালিকা তুলে ধরা হলো:
| পদের নাম | সদস্যের নাম ও পদবি | বিভাগ/অনুষদ |
| সভাপতি | অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার (ডিন) | জীববিজ্ঞান অনুষদ |
| সদস্য | অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা | ফার্মেসি বিভাগ |
| সদস্য | অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা | ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ |
| সদস্য | অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা | নৃবিজ্ঞান বিভাগ |
| সদস্য | অধ্যাপক ড. নাসরীন সুলতানা | সরকার ও রাজনীতি বিভাগ |
| সদস্য সচিব | লুৎফর রহমান আরিফ (ডেপুটি রেজিস্ট্রার) | উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি শাখা |
তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক সভায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এই কঠোর পদক্ষেপ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অভিযুক্তের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সকল সনদ স্থগিত করার মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কোনো প্রাক্তনের বিরুদ্ধেও যদি এমন জঘন্য অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিশ্ববিদ্যালয় তার দায়ভার গ্রহণ করবে না। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ও সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষা করছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।