খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বড়বিল এলাকায় এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নিহত ব্যক্তি রাম্রা মারমা (৪১), যিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জননী। ঘটনাটি মঙ্গলবার সকালে ঘটে, যখন তার নিজ বাড়ির রান্নাঘর থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে বাটনাতলী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বড়বিল এলাকায় রাম্রা মারমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কন্যা আনুমা মারমা, যিনি কলেজছাত্রী, জানিয়েছেন যে সোমবার রাত ১০টার দিকে তিনি ও তার মা খাবার শেষ করে শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঘুম থেকে উঠে মা বাড়িতে না দেখায় তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
অনুমা মারমা রান্নাঘরে গেলে দেখতে পান মা একটি বিছানায় কম্বলে মুড়ে থাকা অবস্থায় আছেন। কম্বল সরালে দেখা যায় তার মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং পুরো শরীর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আনুমার চিৎকারে আশেপাশের মানুষ ছুটে আসে এবং পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
মানিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) মো. আল আমিন জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, “খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রাম্রা মারমা ছিলেন শান্তিপ্রিয় ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকারী একজন নারী। তাদের মতে, এলাকায় এমন ঘটনা আগে ঘটে না, তাই এটি সবাইকে স্তব্ধ ও আতঙ্কিত করেছে।
নিহতের নাম, বয়স, পরিবারের সদস্য এবং ঘটনার স্থান সমন্বিত প্রাথমিক তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপ করা হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | রাম্রা মারমা |
| বয়স | ৪১ বছর |
| পরিবার | তিন ছেলে, এক মেয়ে |
| মেয়ের বয়স ও শিক্ষা | আনুমা মারমা, কলেজছাত্রী |
| ঘটনার স্থান | বড়বিল, মানিকছড়ি উপজেলা, খাগড়াছড়ি |
| মৃতদেহ উদ্ধার সময় | মঙ্গলবার সকাল, সাড়ে ৭টার দিকে |
| মৃতদেহের অবস্থার বর্ণনা | মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন, রক্তাক্ত |
| পুলিশ মন্তব্য | প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা |
স্থানীয়রা আশাপ্রকাশ করেছেন, পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনবে। বর্তমানে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি মানিকছড়ি ও আশেপাশের এলাকায় শোকের ছায়া ফেলে এবং নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
এভাবে, রান্নাঘর থেকে নারীর হত্যাকাণ্ডের তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তের বিবরণ ধাপে ধাপে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ দ্রুত সময়ের মধ্যে হওয়া প্রত্যাশিত।