খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় অবৈধ জ্বালানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে ১৮০টি বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মোট ২১০টি আবাসিক চুলার সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ অভিযানে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের দড়ি সত্যভান্দি, তিনগাঁও এবং ব্রাহ্মন্দী গোবিন্দী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, বহু বাড়িতে অনুমোদনবিহীনভাবে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল। এসব সংযোগ মূলত অবৈধভাবে লাইন ট্যাপিং ও অননুমোদিত সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এতে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছিল এবং একই সঙ্গে এলাকাজুড়ে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| এলাকা | আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ |
| অভিযান তারিখ | ১৯ এপ্রিল |
| সময় | সকাল ১১টা – বিকেল ৪:৪৫ |
| বিচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ | ১৮০টি বাড়ি |
| কাটা চুলার সংযোগ | ২১০টি |
| ইউনিয়ন | দুপ্তারা |
| অভিযান পরিচালনাকারী | নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান |
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধু সরকারের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং এটি জননিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গ্যাস লিকেজের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তাই নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ গ্রহণ বা সংযোগ স্থাপনে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মামলা ও জরিমানার আওতায় আনা হবে সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু চক্র পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ স্থাপন করে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। এসব সংযোগ অনেক সময় অনুমোদিত লাইনের চাপ কমিয়ে দেয়, যার ফলে বৈধ গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়েন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর ফলে শুধু রাজস্ব ক্ষতি নয়, বরং বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের অবৈধ সংযোগ মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।
তারা আরও বলেন, নিয়মিত অভিযান, প্রযুক্তিগত মনিটরিং এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কিছু পরিবার সাময়িক অসুবিধার কথা জানিয়েছেন।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে, যাতে গ্যাস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।