কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁর জানাজা কে পড়াবে—এ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা ভিত্তিহীন। তিনি মন্তব্য করেন, যারা তাঁর জানাজা পড়াবে না বলে প্রচার করছে, তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত।
শনিবার (৩ মে) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বক্তব্য দেন। ফজলুর রহমান বলেন, যারা তাঁর জানাজা পড়ানো নিয়ে আপত্তির কথা বলছে, তারা মূলত বিরোধী মতাদর্শের লোক। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর সঙ্গে বহু পীর, আউলিয়া, গাউস, কুতুব ও দরবেশদের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁদের অনুসারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সে কারণে তাঁর জানাজা পড়ানোর জন্য মানুষের কোনো অভাব হবে না বলে তিনি মনে করেন। তিনি এও উল্লেখ করেন, তাঁর মৃত্যু হলে জানাজা নিয়ে কোনো সংকট সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ফজলুর রহমান বলেন, “যারা বলছে আমার জানাজা পড়াবে না, আল্লাহ চাইলে তাদের আগেই নিয়ে যেতে পারেন।” এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিষয়টিকে ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং বলেন, মানুষের জীবন-মৃত্যু সম্পূর্ণভাবে স্রষ্টার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
নিজের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়া তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হলেও তাঁর আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ভিন্ন। তিনি জানান, তিনি আল্লাহ ও রাসুলে বিশ্বাসী এবং কোরআনের অনুসারী। তিনি নিজেকে সুফিবাদী ধারার অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করেন।
এমপি আরও বলেন, তাঁর জানাজা পড়ানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী এবং এই ধারার বহু আলেম ও ধর্মপ্রাণ মানুষ তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর মৃত্যুর পর যথাযথভাবে জানাজা সম্পন্ন হবে।
নিচে তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় |
বিবরণ |
| মন্তব্যের তারিখ |
৩ মে |
| প্রেক্ষাপট |
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব |
| মূল বক্তব্য |
জানাজা নিয়ে আপত্তিকারীরা বিরোধী মতের |
| ধর্মীয় অবস্থান |
সুফিবাদী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত |
| দাবি |
জানাজা পড়ানোর মানুষের অভাব হবে না |
ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আলোচনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। তবে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে, তাঁর জানাজা নিয়ে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হবে না।