খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে ২০২৬
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের হয়রানি ও প্রতারণা বন্ধে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে, ২০২৬) সকালে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে দালালচক্রের সদস্য এবং বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মিলিয়ে মোট ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), পুলিশ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে এই সমন্বিত অভিযানটি সম্পন্ন হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র হওয়ায় এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত ভিড় করেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদল সংঘবদ্ধ দালালচক্র রোগীদের উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে সরকারি ওষুধ ও সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সাধারণ রোগীরা এই চক্রের দ্বারা নিয়মিত হয়রানির শিকার হন। মূলত এই অনিয়ম ও জনভোগান্তি দূর করতেই এনএসআই-এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই আকস্মিক অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালীন হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৫ জন নারী এবং ১৮-১৯ জন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ রয়েছেন। বাকিরা দালালচক্রের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
অভিযানের সারসংক্ষেপ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| ক্যাটাগরি | সংখ্যা/তথ্য |
| মোট আটককৃত ব্যক্তির সংখ্যা | ৪৫ জন |
| নারী সদস্যের সংখ্যা | ০৫ জন |
| ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি (MR) | ১৮-১৯ জন |
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থাসমূহ | এনএসআই, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট |
| অভিযানের তারিখ | ০৪ মে, ২০২৬ (সোমবার) |
| স্থান | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ |
অভিযান শেষে আটককৃতদের প্রিজন ভ্যানে করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য হাসপাতালে ভিজিটের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তাদের জন্য সোমবার ও বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিন এবং দুপুর ১২টার পর প্রবেশের অনুমতি থাকলেও অনেকে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই হাসপাতালে প্রবেশ করে রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিলেন।
গৃহীত ব্যবস্থার রূপরেখা:
১. ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি: আটককৃত প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতে হাসপাতালের নিয়ম মেনে চলার শর্তে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
২. দালালচক্র: সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত দালালদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩. যাচাই-বাছাই: আটককৃত প্রত্যেকের পরিচয় এবং হাসপাতালে উপস্থিতির উদ্দেশ্য গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হচ্ছে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন।
ডিসি মাসুদ আলম আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ঢামেকে দালালবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও এবারের অভিযানে এনএসআই-এর সক্রিয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনেক বেশি সুশৃঙ্খলভাবে অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে সেবার পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।