খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
চলতি মে মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দেশে মোট ২১৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে শুধু ১৭ মে একদিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। চলমান অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে মে মাসের এই পরিসংখ্যান দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের মে মাসের প্রথম ১৭ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬১ কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। শতাংশের হিসেবে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ।
রেমিট্যান্স প্রবাহের এই বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রবাসী আয় দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলা, চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে এই অর্থের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৫১ কোটি মার্কিন ডলার। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫৩৬ কোটি ২০ লাখ ডলার।
শতাংশের হিসাবে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ার ফলে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবাহের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা সুবিধা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার ডিজিটাল সম্প্রসারণ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহারে আগ্রহ বৃদ্ধির বিষয়গুলো এতে ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো অর্থ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক ব্যয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মে মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের মোট প্রবাসী আয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসে এই প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা রয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখতে হলে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুততর করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের জন্য আর্থিক সেবাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
চলতি মে মাসের প্রথম ১৭ দিনের রেমিট্যান্স প্রবাহের পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। অর্থবছরের বাকি সময়েও এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় তা গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।