খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের বিভিন্ন সূচকের পরিবর্তনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। একই সময়ে জ্বালানি তেলের দামে সামান্য পতন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার (ইল্ড) সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমে আসায় সোনার দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫২৫ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। এর আগে দিনের শুরুতে দামটি সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জুনে সরবরাহযোগ্য সোনার ফিউচার্স চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫২৯ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হয়।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান হাই রিজ ফিউচার্সের ধাতু বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক ডেভিড মেগার জানান, ট্রেজারি ইল্ডের ধারাবাহিক বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমে আসায় বিনিয়োগকারীরা স্বস্তি পেয়েছেন, যার ফলে সোনার দাম পুনরুদ্ধারের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুদের হার এবং বন্ড ইল্ডের পরিবর্তন সাধারণত সোনার বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে, কারণ সোনা কোনো সুদ বা লভ্যাংশ প্রদান করে না।
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি নোটের ইল্ড ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সাধারণভাবে ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ ও আয়ের সুযোগ থাকা সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়ে, ফলে সোনার চাহিদা কিছুটা কমে যায়।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে সম্ভাব্য বিঘ্ন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো বাজারে বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হবে বলে মন্তব্য করার পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম কিছুটা কমে যায়। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণ আস্থা তৈরি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বজায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সাধারণত বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে বাধ্য করে। উচ্চ সুদের হার সাধারণত সোনার বাজারের জন্য নেতিবাচক, তবে অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি থাকলে সোনা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিগত অবস্থান নিয়েও বাজারে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী জুনের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা প্রায় ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে বিভক্ত মত রয়েছে।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিটি তাদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে সোনার বাজারে চাপ থাকতে পারে এবং আগামী তিন মাসে দাম কমে প্রতি আউন্স ৪,৩০০ ডলারে নেমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১,৯৪২ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১,৩৬৫ দশমিক ১২ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাংলাদেশ বাজারে সাধারণত আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয়ভাবে ভরিপ্রতি সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, কর ও স্থানীয় চাহিদার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।