ঢাকা থেকে স্বামীর মরদেহ নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক নারী ও অ্যাম্বুলেন্সচালক। নড়াইল সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন জাহানারা বেগম (৫২) এবং অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর আলী (২৭)। এছাড়া অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহানারা বেগম যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া এলাকার বাসিন্দা। অপরদিকে নিহত চালক আকবর আলীর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন ইসমাইল হোসেন। তিনি পুলিশ বিভাগের একজন কর্মরত উপপরিদর্শকের বাবা ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি যশোরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মরদেহের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জাহানারা বেগমসহ কয়েকজন স্বজন।
পথিমধ্যে নড়াইল সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লোকাল বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই জাহানারা বেগমের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে চালক আকবর আলীসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে আহতদের হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর আলী মারা যান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় |
তথ্য |
| দুর্ঘটনার স্থান |
বালিয়াডাঙ্গা, নড়াইল সদর উপজেলা |
| সড়ক |
ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়ক |
| দুর্ঘটনার ধরন |
অ্যাম্বুলেন্স ও লোকাল বাসের সংঘর্ষ |
| নিহত |
২ জন |
| আহত |
অন্তত ৫ জন |
| নিহত নারী |
জাহানারা বেগম (৫২) |
| নিহত চালক |
আকবর আলী (২৭) |
| গন্তব্য |
যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া এলাকা |
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজয় কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন দুটি জব্দ করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনা বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, চালকের ক্লান্তি, সড়ক নিরাপত্তা বিধি অমান্য এবং ভারী যানবাহনের চাপ অনেক সময় এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায়ও সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
স্বজনদের জন্য ঘটনাটি ছিল এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। স্বামীর মরদেহ নিয়ে শেষ বিদায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা জাহানারা বেগম নিজেও সেই যাত্রাপথেই প্রাণ হারান। একই ঘটনায় প্রাণ যায় অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর আলীর। ফলে একটি শোকযাত্রা মুহূর্তেই আরও গভীর শোক ও বেদনায় রূপ নেয়।