ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ধারণা করেছিলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসি ডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে যৌথ সামরিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ তেহরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করবে এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে এমন এক মার্কিন–ইসরায়েলি কৌশলগত জোটের স্থপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করবে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের মধ্যে নীতিগত ব্যবধান স্পষ্টভাবে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে অগ্রসর হলেও ইসরায়েল নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং সামরিক বিকল্প সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে।
চুক্তি ও আলোচনার কাঠামো
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালীন ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির শর্তাবলি নির্ধারণের আলোচনা হবে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সময়সীমা ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।
| বিষয় |
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান |
ইসরায়েলের অবস্থান |
| আলোচনার সময়সীমা |
দুই মাসের মধ্যে চুক্তি আলোচনা |
সময়সীমা তিন মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে |
| কৌশলগত লক্ষ্য |
কূটনৈতিক সমাধান ও স্থিতিশীলতা |
সামরিক স্বাধীনতা বজায় রাখা |
| ইরান ইস্যু |
আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ |
সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি |
| লেবানন পরিস্থিতি |
উত্তেজনা হ্রাস |
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত |
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই আলোচনার ফলে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে, অথচ তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান নিশ্চিত নাও হতে পারে।
লেবানন ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। ইরানের অন্যতম দাবি হলো লেবানন থেকে ইসরায়েলের সামরিক হামলা বন্ধ করা।
সাম্প্রতিক ঘটনায়, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি আলোচনার সময় বৈরুতে হামলা না করার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। ওই সময় এক ফোনালাপে তিনি নেতানিয়াহুকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। যদিও পরে ইসরায়েল আবারও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়, যার পর ইরান ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকেই তিরস্কার করে। পরে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
রাজনৈতিক চাপ ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
আগামী অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অঙ্গীকার নিয়ে ইসরায়েলি জনগণের আস্থা কমছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
একটি জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৪১ শতাংশ ইসরায়েলি ইহুদি নাগরিক মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেন, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
চুক্তির ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক প্রভাব
চুক্তির খসড়ায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে।
চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন পুনরায় শুরু হতে পারে, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনো অনির্ধারিত। আলোচনার পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।