খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় স্কুলশিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ রবিবার (২১ জুন, ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় এলাকাবাসী রামগঞ্জ পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় সমবেত হয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালনা করেন। ঘটনার ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে না পারায় আন্দোলনকারীরা স্থানীয় প্রশাসনকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তাঁদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের বিবরণ
আজ সকাল ১১টায় রামগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ক্ষুব্ধ অভিভাবক ব্যানার-ফেস্টুনসহ রামগঞ্জ পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ চৌরাস্তা এলাকায় জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। সড়ক অবরোধের ফলে ওই এলাকার যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়।
আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভের কারণ হলো, গত ১৬ জুন হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হওয়ার পর আজ পর্যন্ত ছয় দিন পার হয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এজাহারনামীয় কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। আসামিরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ালে মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে বলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য
আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী পুলিশ ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানান যে, মামলার আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তবে পুলিশ নিষ্ক্রিয় নয়, আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
পরবর্তীতে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তবে প্রশাসনের মৌখিক আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁরা অনতিবিলম্বে দৃশ্যমান অগ্রগতির দাবিতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বা আলটিমেটাম বেঁধে দেন এবং এই সময়ের জন্য আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়ে সড়ক থেকে সরে যান।
মেহেদী হাসান হত্যাকাণ্ড এবং আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মূল তথ্যাবলি নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | ঘটনার বিবরণ ও তদন্তের তথ্য | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট ফ্যাক্ট ও ডেটা |
| ১ | ভিকটিম ও তাঁর পরিচয় | মেহেদী হাসান; অষ্টম শ্রেণির ছাত্র (ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া একাডেমি)। |
| ২ | মরদেহ উদ্ধারের তারিখ ও স্থান | ১৬ জুন, ২০২৬; ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল। |
| ৩ | হত্যাকাণ্ডের ধরন (অভিযোগ) | সিনিয়র শিক্ষার্থীরা মেহেদীকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখে। |
| ৪ | মামলার বর্তমান স্থিতি | ১৮ জনকে আসামি করে একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের। |
| ৫ | আজকের আন্দোলনের তারিখ ও সময় | ২১ জুন, ২০২৬ (রবিবার); বেলা ১১টা। |
| ৬ | আন্দোলনের স্থান ও অংশগ্রহণকারী | রামগঞ্জ পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকা; সহস্রাধিক মানুষ। |
| ৭ | আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম | আসামিদের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম। |
প্রেক্ষাপট ও মামলার বিবরণ
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন রামগঞ্জের ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবার ও সহপাঠীদের অভিযোগ, স্কুলের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা মেহেদী হাসানকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে লাশটি হলের ভেতর ঝুলিয়ে রেখেছিল। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রামগঞ্জ থানায় ১৮ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিরা গ্রেফতার না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।