খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে জনসংখ্যা ও ঐতিহ্যের দিক থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর দুটি দেশের মধ্যে এক স্মরণীয় লড়াই অনুষ্ঠিত হলো। ‘এইচ’ গ্রুপের এই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি উরুগুয়ে এবং আফ্রিকার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মাঠের ফুটবল শৈলীর পাশাপাশি ম্যাচটি ফুটবল বিশ্বকাপে এক অনন্য রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দুটি দেশের মুখোমুখি হওয়ার এক নতুন নজির স্থাপিত হয়েছে এই ম্যাচের মাধ্যমে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটিতে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে শক্তিশালী উরুগুয়েকে ২-২ গোলে রুখে দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছে।
দুই দেশের মোট জনসংখ্যা একত্রে হিসাব করলে দাঁড়ায় মাত্র ৩৯ থেকে ৪০ লাখের কাছাকাছি, যা ফুটবলের বৈশ্বিক আসরে একটি বিরল ঘটনা।
উরুগুয়ে: ১৯৩০ এবং ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপজয়ী উরুগুয়ের মোট জনসংখ্যা ৩৫ লাখের কিছু কম। জনসংখ্যার দিক থেকে ছোট হলেও বিশ্ব ফুটবলে তাদের ঐতিহ্য ও অর্জন অত্যন্ত সুপ্রাচীন এবং সমৃদ্ধ।
কেপ ভার্দে: অন্যদিকে, আফ্রিকার প্রতিনিধি কেপ ভার্দে এবারই প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। জনসংখ্যার বিচারে তারা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। দেশটির মোট জনসংখ্যা মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজারের মতো, যার মধ্যে এর রাজধানী প্রাইয়াতেই বসবাস করেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ। কার্যত একটি বড় মহানগরের সমান জনসংখ্যা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে এই নবাগত দলটি।
হার্ড রক স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এই ম্যাচে দুই দলই সমান তালে লড়াই করতে থাকে। ম্যাচের ২১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে কেপ ভার্দের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কেভিন পিনা একটি বুলেট গতির অসাধারণ সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এটি ছিল বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম গোল এবং এই গোলের মাধ্যমে কেভিন পিনা আফ্রিকার তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল করার গৌরব অর্জন করেন।
উরুগুয়ের জন্য এই গোলটি ছিল একটি অপ্রত্যাশিত ধাক্কা, কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম তারা সরাসরি ফ্রি কিক থেকে কোনো গোল হজম করল। এর আগে উরুগুয়ে সর্বশেষ ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে গোল খেয়েছিল। দীর্ঘ ১৯ বছর পর উরুগুয়েকে আবার এই ধরনের গোলের মুখোমুখি হতে হলো।
পিছিয়ে পড়ে উরুগুয়ে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে বক্সে উড়ে আসা একটি বল নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হেড করার চেষ্টা চলে। কেউ বলে সঠিকভাবে মাথা ছোঁয়াতে না পারলেও বলটি কেপ ভার্দের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সেই ফিরতি বলকে জালে পাঠান উরুগুয়ের মিডফিল্ডার মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো, যার ফলে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরে। এর ঠিক পরেই, প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের ৬ষ্ঠ মিনিটে উরুগুয়ে দ্বিতীয় গোল করে এগিয়ে যায়। সতীর্থের একটি হেড থেকে বল পেয়ে পায়ের টোকায় গোলটি করেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার আগুস্তিন কানোবিও। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে উরুগুয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ বাঁচানোর লক্ষে কেপ ভার্দে তাদের আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচের ৬১ মিনিটে উরুগুয়ের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ও গোলরক্ষকের এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নেয় কেপ ভার্দে। উরুগুয়ের ডিফেন্ডার মাতিয়াস অলিভেরা এবং গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার মধ্যে তীব্র ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অলিভেরা ঠিকমতো পায়ে বল লাগাতে পারেননি, অন্যদিকে গোলরক্ষক মুসলেরাও নিজের জায়গা থেকে অনেকটা সামনে এগিয়ে এসেছিলেন।
এই সুযোগে কেপ ভার্দের হেলিও ভারেলা দ্রুত বলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং দূরপাল্লার এক চমৎকার শটে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচটিতে ২-২ গোলে সমতা আনেন। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল হেলিও ভারেলার প্রথম গোল। এই গোলের মাধ্যমে নবাগত দলটি নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই দ্বিতীয় গোলের দেখা পায়। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় খেলাটি ড্রয়ে শেষ হয়।
| সময় (মিনিট) | গোলদাতার নাম | দলের নাম | গোলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
| ২১ মিনিট | কেভিন পিনা | কেপ ভার্দে | বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির সরাসরি ফ্রি কিক। |
| ৪৪ মিনিট | মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো | উরুগুয়ে | পোস্টে লেগে ফিরে আসা বল থেকে ফিরতি শটে গোল। |
| ৪৫+৬ মিনিট | আগুস্তিন কানোবিও | উরুগুয়ে | সতীর্থের হেড থেকে পাওয়া বলে পায়ের টোকায় গোল। |
| ৬১ মিনিট | হেলিও ভারেলা | কেপ ভার্দে | প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের ভুল বোঝাবুঝিতে দূরপাল্লার শটে গোল। |
এই ম্যাচের আগে ‘এইচ’ গ্রুপের দুই দলই একটি করে ম্যাচ খেলে ১ পয়েন্ট করে অর্জন করেছিল। এই ড্রয়ের ফলে দুই ম্যাচের শেষে দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ২। অন্যদিকে, এই গ্রুপের অপর ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে স্পেন।