আওয়ামী লীগ আমলের তুলনায় ইউনুসের শাসনামলে দুর্নীতি বেড়েছে: টিআইবি
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশের সেবাখাতে দুর্নীতির মাত্রা ও বিস্তৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সংস্থাটির সর্বশেষ জাতীয় খানা জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান সময়ে সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। দুই বছর আগে ২০২৩ সালের জরিপে এই হার ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপে সেবাখাতের বিভিন্ন স্তরে ঘুষ লেনদেন, হয়রানি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জানান, দেশের ডিজিটাল সেবা অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি থাকলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা যায়নি। আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও বাস্তব সেবাপ্রাপ্তিতে ঘুষ ও অনিয়ম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জরিপের ফলাফলে ঘুষকে অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্যতামূলক বাস্তবতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। অনেক সেবাগ্রহীতা জানিয়েছেন, ঘুষ না দিলে নির্ধারিত সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে ঘুষ প্রদানের প্রবণতা এক ধরনের নিয়মিত প্রথায় পরিণত হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
জরিপ অনুযায়ী সেবাখাতে দুর্নীতির কারণে মোট ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা, যা জাতীয় বাজেটের প্রায় ১ দশমিক ৫৮ শতাংশের সমান। এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দুর্নীতির প্রভাব নিয়ে বলা হয়, শহরের তুলনায় গ্রামীণ মানুষদের ওপর চাপ বেশি। নারীরা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও তুলনামূলকভাবে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতাহীন মানুষরা বেশি বঞ্চিত হচ্ছেন, আর ক্ষমতাসম্পন্নরা সুবিধা পাচ্ছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানাশোনা সীমিত। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশ এই সংস্থা সম্পর্কে জানেন। তবে অভিযোগ করার হার মাত্র ০ দশমিক ৯ শতাংশ, যা জনগণের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমে স্থবিরতা রয়েছে, যা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা তৈরি করছে। দীর্ঘ সময় ধরে কমিশনে পূর্ণ নেতৃত্ব না থাকায় কার্যক্রম আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়।
সংস্থার পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যকর নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সেবাখাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।