খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি মুরগির খামারের টিনের চালা থেকে পা পিছলে পড়ে জাকির হোসেন (৩২) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের পুরুড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত জাকির হোসেন ওই গ্রামের আবু সাইদের ছেলে। তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন এবং ভরাডোবা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে জাকির হোসেন তাদের নিজেদের মুরগির খামারের ভেতরে একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া ফ্যান মেরামত করার উদ্যোগ নেন। ফ্যানটি ঠিক করার সুবিধার্থে তিনি খামারের টিনের চালে উঠেছিলেন। কিন্তু কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিনি চাল থেকে নিচে শক্ত মেঝেতে পড়ে যান। ওপর থেকে পড়ে যাওয়ায় তিনি মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার কান দিয়ে তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
দুর্ঘটনার পর পরই খামারের ভেতরে শব্দ শুনে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। তারা জাকিরকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার মাথার আঘাতের তীব্রতা দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং ভর্তি করান। কিন্তু ঢাকার এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকির হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত জাকিরের মামা আসফাক আল মামুন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, খামারের ফ্যানটি বেশ কিছুদিন ধরে নষ্ট ছিল। সেটি মেরামত করতেই জাকির টিনের চালে উঠেছিল। কিন্তু সামান্য অসাবধানতায় এত বড় বিপত্তি ঘটবে তা কেউ কল্পনাও করেনি। উপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার পর তার মাথা থেকে প্রচুর রক্ত বের হচ্ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়েও তাকে আর বাঁচানো গেল না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনা। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।