খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র অন্যতম নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আমরা নিশ্চিত করতে চাই, এ দেশ থেকে পরিবারতন্ত্র কবরস্থ হয়েছে। এ দেশে কামারের ছেলে প্রধানমন্ত্রী হবে, এ দেশে কুমারের ছেলে প্রধানমন্ত্রী হবে। এ দেশে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব উঠে আসবে।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দলটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ দেশে আমাদের মধ্যে ভেদাভেদ থাকবে না। রাজনৈতিক পরমত সহিষ্ণুতা থাকবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।’
হাসনাত বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দেড় দশক আওয়ামী জাহেলিয়াতের শাসনের পর আজ মুক্ত হয়েছি। দীর্ঘ দেড় দশক দেশে ছিল বিচারহীনতার সংস্কৃতি। ভারতীয় আগ্রাসনে বিডিআর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। শাপলা চত্বরে আমাদের ভাইদের ওপর রাতের অন্ধকারে জেনোসাইড চালানো হয়েছে। আপনারা দেখেছেন রাতের ভোট, দিনের ভোট চালু করার সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘গত ৫ আগস্ট আমরা আওয়ামী দুঃশাসনের কবর রচনা করেছি। আমরা বলতে চাই, এই সংসদে কে যাবে তা নির্ধারণ করবে দেশের খেটে খাওয়া জনতা, এই ভূখণ্ডের মানুষ। দীর্ঘ সময়ে আমরা জাতি গড়ে তুলতে পারিনি, সুশাসন নিশ্চিত করতে পারিনি, স্বাধীন পুলিশ-বিচার বিভাগ নিশ্চিত করতে পারিনি। বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করা হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে আমরা স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব। আমরা বিভাজনের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একতার রাজনীতি চালু করব।’
বিদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু প্রেসক্রিপশন চলবে না। এই গণভবনে কে যাবে, সেটি নির্ধারিত হবে এই বাংলাদেশ থেকে, ভারত থেকে সেটি নির্ধারিত হবে না। সংসদে কে যাবে, সেটি নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষ।’
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
এর আগে, বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠান পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, গীতাপাঠ, ত্রিপিটক, বাইবেল থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় মঞ্চ ও দর্শকসারিতে উপস্থিত অতিথি ও জনতা দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান। এরপর জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠান শুরুর পর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে ওঠেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেনসহ দলটির নেতারা। মঞ্চে তাদের সঙ্গে ছিলেন সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সামান্তা শারমিন, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। তারা মঞ্চে বসে থাকা অবস্থায় স্ক্রিনে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
আত্মপ্রকাশের আয়োজনে সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্বপালনে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, আজকের আয়োজনকে কেন্দ্র করে মেডিকেল টিম, অস্থায়ী ওয়াশ রুম, পুলিশ বুথ, নারীদের জন্য বুথ, ভিআইপি বুথ ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে ইতোমধ্যে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কূটনীতিকরা।
খবরওয়ালা/আরডি