মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

ঈদ সংখ্যা ২০২৫

গল্প

জাতাধিকার

আরিফ মজুমদার

প্রকাশ: সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

জাতাধিকার
ছবি: খবরওয়ালা গ্রাফিক্স

খাটিয়ায় সাদা কাফনের কাপড় পরিয়ে রাখা আজগার সাহেবের লাশ। প্রতিনিয়ত মানসিক অত্যাচার আর রোগব্যাধির শরীরে তিনি ষাটের বেশি বয়স পাননি, পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন গত মধ্যরাতে। সকাল হতেই তার মৃত্যুর খবর গেল চতুর্দিকে। শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ভিড় জমাচ্ছে। বাড়ির উঠানে আজগার সাহেবের লাশ রেখেই তার রেখে যাওয়া অর্থ-সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা বেধেছে। আজগার সাহেবের দ্বিতীয় স্ত্রী তারা বেগম ও তার একমাত্র সন্তান সাহারা লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করেই ঝগড়া বাধাচ্ছে। মরাবাড়িতে এমন অপ্রত্যাশিত ঝগড়ায় অম্লান করে দেয় তার মৃত্যুশোকও! তাতে কি কষ্ট পাচ্ছেন সদ্যঃপ্রয়াত আজগার সাহেব! মৃত্যুর পরও নাকি মৃত ব্যক্তির আত্মা…! 

আজগার সাহেব ছিলেন দাঁতের চিকিৎসক। মফস্বল শহরে ছিল তার চেম্বার; আয়-রোজগার করেছেন ভালোই। যথেষ্ট অর্থ-সম্পদও জমিয়েছেন। স্ত্রী আর একমাত্র মেয়ে সাহারাকে নিয়ে ছিল তার প্রথম সংসার। জরায়ু ক্যানসারে যখন তার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলো, তখন সাহারার বয়স প্রায় আঠারো। মেয়ের চেহারার দিকে চেয়ে স্ত্রীর মৃত্যুশোক ভুলে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা ছিল আজগার সাহেবের। মাকে হারিয়ে সাহারাও কেমন মনমরা স্বভাবের হয়ে গেল! মায়ের মৃত্যুর পরের বছরই বিয়ে হয় সাহারার, স্বামীর সংসারে চলে গেল সে। আজগার সাহেব বাড়িতে একা হয়ে পড়লেন। বিপদে-আপদে, রাতবিরাতে খুব নিঃসঙ্গ মানুষ তিনি। বাড়িতে তিনি ছাড়া আর কোনো দ্বিতীয় প্রাণী নেই। সারা দিনে কাজে ব্যস্ত থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত বিছানায় চুপচাপ শোয়ে থাকেন, তার চোখে ঘুম হয় না। তার স্ত্রীর কথা মনে পড়ে, মেয়েটার কথা মনে পড়ে, একা বিছানায় কত কী যে ভাবেন তিনি; কখনো কখনো কাঁদেনও। সাহারা স্বামীর সংসারে চলে যাওয়ার পর কয়েক দিনে ঘরটাও কেমন অগোছালো হয়ে গেল! স্ত্রী-সন্তানকে ছাড়া মধ্যবয়সী আজগার সাহেবের বড় একঘেয়েমি, ক্লান্তিকর জীবন কাটছে; কদিন আর বেঁচে থাকবেন এভাবে! কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করলেও কেউ কেউ বোধ হয় ব্যক্তিজীবনে তেমন সুখী হতে পারেন না! নিজের জীবনের চরম অভিজ্ঞতা দিয়েই এই বিষয়টি উপলব্ধি করছেন আজগার সাহেব। যেই মানুষটা কত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে, কত আত্মত্যাগ স্বীকার করে, কত মায়া-মমতা দিয়ে নিজের একটা সংসার সাজায়; আর সময়ের ব্যবধানে সেই সংসারেও একদিন এত নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে সেই মানুষটা! আহা! সত্যিই তো বড় রহস্যময় এ মানবজনম! যখনই বেঁচে থাকার একটু অদম্য আশা জাগে তার বুকে; তখনই আজগার সাহেব ভাবেন, মানুষ তো চাইলে যেকোনো অবস্থায় নতুন করে শুরু করতে পারে জীবনটা! বোধ হয় মনের জোরটুকু থাকা জরুরি…। সাহারার বিয়ের কয়েক মাস পর, অনিচ্ছা নিয়েও দ্বিতীয় বিয়েটা করতেই হলো তাকে। বয়সে প্রায় নয় বছরের পার্থক্য তার দ্বিতীয় স্ত্রী তারা বেগম ডিভোর্সি নারী। অতি চঞ্চল স্বভাবের তারা বেগম যখন-তখন দুমদাম কী সব কথা বলে! দ্বিধাহীনভাবে যেকোনো বিশ্রী কথাও তাকে বলতে পারে তারা বেগম। আজগার সাহেব খুব সংগত কারণেই কমই কথা বলার আগ্রহ বোধ করেন তারা বেগমের সঙ্গে। আজগার সাহেবের পরের সংসারে কোনো সন্তানসন্ততি হলো না। তারা বেগম বন্ধ্যা নারী, বোধ হয় সেই কারণেই প্রথম স্বামী ডিভোর্স দেয় তাকে। মৃত্যুর কয়েক বছর আগে থেকেই খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন আজগার সাহেব; কয়েকবার স্ট্রোকও হলো। এমন অসুস্থ স্বামীকে ছেড়ে যেতে মোটেও আপত্তি থাকার কথা নয় তারা বেগমের মতন তিরিক্ষি স্বভাবের নারীর, তবু পড়ে থেকেছিল বোধ হয় স্বামীর বিষয়-সম্পত্তির লোভে! কারণ, দুজনের মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততাও ছিল চরমে। অবস্থা এমনটি হয়েছিল যে আজগার সাহেব মরলেই বুঝি হাঁপ ছেড়ে বাঁচে তারা বেগম। কিন্তু ওপরওলার ইচ্ছায় সেটাও যেন হচ্ছিল না! নিত্যদিনে তারা বেগমের অসহ্য চিৎকার-চেঁচামেচি আর মানসিক অত্যাচারেও যেন কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। রাগে একদিন তাকে বাথরুমেও আটকে রেখেছিল তারা বেগম। ঘুমের ওষুধ খাইয়েও তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল! কিন্তু অজানা কেলেঙ্কারির ভয়ে বিষয়টি কাউকে বলেননি আজগার সাহেব। যদিও অপ্রকাশ্য দহনে ভেতরে-ভেতরে পুড়েছেন ঠিকই তিনি, তার চোখেমুখে সারাক্ষণই লেগে থাকত একটা বেদনার ভাব। হঠাৎ করে তার বুক ভারী হয়ে উঠত, দীর্ঘ নিশ্বাসও ছাড়তেন অতি গোপনে। শেষ বয়সে চাইলেই তো আর সব গোপন ব্যাপার-স্যাপার বাইরের যে কাউকে বলা যায় না; এ ছাড়া তার দ্বিতীয় স্ত্রী তারা বেগম যতই মন্দ স্বভাবের নারী হোক না কেন, অনিবার্য কারণে তার সামনে বিবস্ত্র হতে পারলেও অন্য কারও সামনে তো সেটা কখনো সম্ভব নয়! তা ছাড়া কোনো কোনো পুরুষের জীবনে স্ত্রী হলো বড় দুর্বোধ্য প্রাণী, কখন যে কী করে বসবে, সেটা বলাও দায়! আর দ্বিতীয় স্ত্রী বদরাগী হলে তো বিপদও দ্বিগুণ বোধ হয়! দুজনের মধ্যে সম্পর্ক আর বয়সের ব্যবধান যেমনটিই হোক না কেন, তবু আজগার সাহেবের শেষ বয়সের দিনগুলো কোনোরকমে কেটে যাচ্ছিল তারা বেগমের সঙ্গেই তো!

তারপর যখন আজগার সাহেব খুব অসুস্থাবস্থায় একেবারে দীর্ঘ শয্যাশায়ী, তখন তারা বেগম তার বড় ভাইদের সলা-পরামর্শে স্বামীর বাড়ির জায়গাজমি কৌশলে নিজের নামে দলিল করে নিয়ে নেয়। বিষয়টির বিন্দুবিসর্গও তখন জানতে পারেনি সাহারা! আজগার সাহেবের মৃত্যুর খবরে বাপের বাড়ি ছুটে আসে সাহারা, সঙ্গে এসেছে তার স্বামী সাজ্জাদ আর চার বছরের বাচ্চা মেয়েটাও। বাড়ির উঠানে আজগার সাহেবের লাশ কাফনে ঢাকা। কাফনের কাপড় সরিয়ে শেষবারের মতো বাপের মরা মুখটা দেখে নেয় সাহারা, পিতৃশোকে কান্না থামাতে পারে না সে। এদিকে বাড়িতে সাহারাকে দেখে মন্দ কথা বলা শুরু করেছে তারা বেগম, ‘কেমুন বদ মাইয়া গো! বুড়া বাপটা বাঁইচা থাকতে তো আইলোই না…!’ বাপের মৃত্যুর শোকে কথাগুলো দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে সাহারা; কোনো কথার জবাব দেয় না সে। তবু তারা বেগম কী একটা সামান্য বিষয় নিয়ে খুব রেগে সাহারার শিশু মেয়েটাকে বের করে দেয় নানার ঘর থেকে। অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে সৎমায়ের সঙ্গে একটু ঝগড়াও বেধে যায় সাহারার, তখন তারা বেগম উত্তেজিত হয়ে সাহারাকেও বেরিয়ে যেতে বলে বাপের বাড়ি থেকে। সাহারার স্বামী সাজ্জাদের সঙ্গেও রাগারাগি হয় তারা বেগমের। সৎমায়ের সঙ্গে ঝগড়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে বাপের রেখে যাওয়া অর্থ-সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বিষয়টিও জানতে পারে সাহারা। আজগার সাহেবের বাড়ির নয় শতক জমিসহ তিনতলা ভবনটি হেবা দলিল করে নিয়ে গেছে তারা বেগম। ব্যাংকে রাখা পঁচিশ লাখ টাকাও তার সৎমায়ের অ্যাকাউন্টে জমা; আর গ্রামের চাষের সকল জমি হাতিয়ে নিয়েছে তার চাচারা। সবকিছু জেনে বাপের মৃত্যুর দিনেও সাহারার মনে কী যে তীব্র ক্ষোভ! অগত্যা সৎমায়ের সঙ্গে চেঁচিয়ে-মেচিয়ে ঝগড়াঝাঁটি শুরু করে সে। সাহারার স্বামী রেগে গিয়ে শ্বশুরের লাশ বাড়িতে আটকে রাখে, দাফন করতে দেয় না। বিষয়টি জেনে থানা থেকে পুলিশ আসে বাড়িতে। উঠানে স্বামীর লাশ রেখে উত্তরাধিকারের অর্থ-সম্পত্তি নিয়ে কোনো কথা বলতে নারাজ তারা বেগম। পুলিশি হস্তক্ষেপে আজগার সাহেবের লাশের জানাজা শেষে দাফন হয় শেষ বিকেলে। এদিন সন্ধ্যার আগেই বাপের বাড়ি থেকে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে যেতে হলো সাহারাকে। জগতে বন-জঙ্গলের বাঘ-ভাল্লুক তো নয়, কখনো কখনো মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়ায় কাছের মানুষই—বাপের মৃত্যুর পর এমনটিই বোধ করছে সাহারা! এক রাতের জন্যও বাপের বাড়িতে থাকতে দেওয়া হলো না তাকে! অর্থ-সম্পত্তির জন্য কত নিষ্ঠুর হতে পারছে কাছের মানুষজন! সৎমায়ের আর চাচাদের অবিশ্বাস্য বিশ্বাসঘাতকতায় সাহারার মনটা পুড়ছে; তার বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা অবিরত জোরে জোরে আঘাত করছে কেমন বিষের যন্ত্রণায়! একমাত্র সন্তান হয়েও বাপের রেখে যাওয়া সমস্ত অর্থ-সম্পত্তি থেকে, জাতাধিকারসূত্রে কিছুই পাবে না সে? এমন একটা অমীমাংসিত প্রশ্নেও সাহারার নীরব রোদন কি শুধুই পিতৃশোকে!