খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
এ বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মাত্রাতিরিক্ত দেরি করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শিক্ষা বিভাগ। শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রায় তিন মাস পর, মার্চের শেষ সপ্তাহে, সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বিষয়ের বই পৌঁছায়।
এই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এনসিটিবি আগামী বছরের (২০২৬) বই ছাপার কাজ আগেভাগেই শুরু করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই প্রাক-প্রাথমিক ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার দরপত্র আহ্বান করা হবে। জুনের মধ্যেই সব শ্রেণির দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে অক্টোবর-নভেম্বরে বই সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির রুটিন দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী জানান, আগের বছরের সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়েই এ বছর আগেভাগে প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে, যাতে আগামী বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থী পাঠ্যবই পায়।
সরকার ২০১০ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দিয়ে আসছে। বছরের প্রথম দিন বই উৎসব আয়োজনের রেওয়াজ থাকলেও গত কয়েক বছর দরপত্র জটিলতা ও শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের কারণে সময়মতো সব বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তবে এবছরের দেরি ছিল সবচেয়ে বেশি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এনসিটিবির বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (Annual Procurement Plan – APP) অনুমোদন দিয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে পাঠ্যবইয়ের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে চাহিদা প্রাথমিকভাবে ২৩ কোটি ১২ লাখ কপি ধরা হলেও পুনরায় যাচাইয়ে তা কমে ২২ কোটির ঘরে নেমেছে। এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানান, অতীতে বিদ্যালয়গুলো অতিরিক্ত চাহিদা দিত, যার ফলে বইয়ের সংখ্যা ও ব্যয় বাড়ত। এবার সরেজমিন পরিদর্শন করে বাস্তব চাহিদা নিরূপণের চেষ্টা চলছে।
প্রাথমিকের বইয়ের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত না হলেও গত বছর এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার। আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিকের বই ও নভেম্বরের মধ্যে মাধ্যমিকের বই সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনসিটিবি।
এদিকে ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই বিতরণের পরিকল্পনাও করেছে সংস্থাটি। প্রাথমিকভাবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে, এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য শ্রেণিতে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন আসেনি।
খবরওয়ালা/এমবি