ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া, টিকটিকিপাড়া, খেজুরতলা ও মোসলেমপুরসহ অন্তত ছয়টি পয়েন্টে প্রতিদিনই চলছে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে এই অবৈধ বালু ব্যবসা, যার ফলে সরকারের রাজস্ব হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের বেলায় শত শত ট্রাক ও রাতে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে নদী থেকে উত্তোলিত বালু বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কারণে বাহিরচর ইউনিয়নের গ্রামীণ রাস্তাগুলো ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তায় ধুলা, শব্দ দূষণ এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় রানি বেগম বলেন, ‘সকাল-বিকাল আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে ট্রাক আর ড্রাম ট্রাক চলাচল করে। বাচ্চাদের নিয়ে আমরা চরম আতঙ্কে থাকি। প্রতিবাদ করলেই হুমকি দেওয়া হয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগে এসব বালুমহলের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন আওয়ামী লীগ-সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে ক্ষমতার পালাবদলে এখন বিএনপি-ঘনিষ্ঠদের নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রম চলছে। তাদের ছত্রছায়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ ট্রাক বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছে। এতে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার বালু বিক্রি হচ্ছে, যার বড় একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে যাচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইজারাকৃত এলাকায় আমরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তবে চরের বালি বা ইজারাবহির্ভূত উত্তোলনের ক্ষেত্রে জরিমানা ও অভিযান চলমান রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘গ্রামীণ রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচল সংক্রান্ত বিষয়ে বিআরটি বা এলজিইডির মতামত পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বিএনপির ভেড়ামারা উপজেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম বলেন, ‘আমার দলের কেউ এর সাথে জড়িত নয়। মুন্সিপাড়ায় পদ্মা নদীর বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ ও ব্লকের জন্য দিনের বেলায় বালু উত্তোলন হতে পারে, কিন্তু রাতের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
উল্লেখ্য, পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও একদল অসাধু ব্যক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের নিরবতা কিংবা জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘ইজারাবহির্ভূত বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
খবরওয়ালা/আরডি