খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সেখানে ন্যূনতম খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সীমিতসংখ্যক ত্রাণ ট্রাক ঢুকলেও তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অধিকাংশ মানুষের কাছেই পৌঁছাচ্ছে না সহায়তা।
এর মধ্যেই থামছে না ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা। প্রতিদিনই গাজার কোথাও না কোথাও চলছে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ। প্রাণ হারাচ্ছেন বহু মানুষ, আহত হচ্ছেন অসংখ্য। খাদ্যসংকটে দিন কাটছে মৃত্যুভয়ে।
গাজার বাসিন্দা রাইদ আল-আথামনা, যিনি একসময় বিদেশি সাংবাদিকদের গাড়ি চালাতেন, এখন কর্মহীন। ইসরায়েল এখন আর বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। ফোনে তিনি জানান, ‘আমাদের এখানে কোনো খাবার নেই। রুটি বা সামান্য আটাও নেই ঘরে। একটু ডাল কিনেছি আজ, কিন্তু আগামীকাল কী খাওয়াবো, জানি না।’
আথামনার ভাষায়, ‘দিনভর কোথাও না কোথাও হামলা চলছে। মানুষ আতঙ্কে আশ্রয়ের জায়গা পাচ্ছে না। না আছে নিরাপত্তা, না আছে খাবার। বহু মানুষ রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাচ্ছে। আমি নিজেই এমন দৃশ্য দেখেছি।’
শেষবার মে মাসে আথামনার সঙ্গে কথা হয়েছিল জার্মান সংবাদমাধ্যম ডিডাব্লিউ’র। তখন তিন মাসের অবরোধ শেষে কিছু ত্রাণ ঢোকার সুযোগ মিলেছিল। আশার আলো দেখেছিলেন তিনি। তবে বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আথামনা বলেন, ‘আমার নাতি-নাতনিদের নিয়ে আছি। তারা সারাক্ষণ কাঁদছে খিদের জ্বালায়। একটুকরো রুটির জন্যও সংগ্রাম করতে হচ্ছে আমাদের।’
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, গাজার পরিস্থিতি চরম সংকটপূর্ণ। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় সংস্থা জানিয়েছে, গাজার ৮৮ শতাংশ এলাকা এখন সামরিক জোন হিসেবে চিহ্নিত। ফলে মানুষ ঘরছাড়া হয়ে অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এমনকি সেসব ত্রাণ শিবির থেকেও অনেক সময় তাদের সরে যেতে বলা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান একে ‘মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ খেতে পারছে না। গাজায় এক ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।’
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের কর্মকর্তা রস স্মিথ জানান, ‘আমাদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ টানা একাধিক দিন না খেয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।’
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু জুলাই মাসেই অপুষ্টি ও খাদ্যসংকটে অন্তত ৪৮ জন মারা গেছেন। ২০২৫ সালের শুরুর পর থেকে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে। সময় যত এগোচ্ছে, মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হচ্ছে।
গাজার এই মানবিক সংকটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্লেষকরা। তবে এখনো স্থায়ী কোনো সমাধানের পথ দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
খবরওয়ালা/শরিফ