খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫
কক্সবাজার জেলার উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোয় প্রতিদিন গড়ে জন্ম নিচ্ছে ৮৭ জন শিশু। সেই হিসাবে প্রতিবছর জন্ম হচ্ছে প্রায় ৩২ হাজার রোহিঙ্গা শিশু। স্থানীয় সূত্র জানায়, নতুন করে ৩২ হাজার ৪১২ পরিবারের এক লাখ ২৪ হাজার ১২৮ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। সীমান্ত দিয়েও রোহিঙ্গা প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার কক্সবাজারের ইনানী হোটেল বে ওয়াচে রোহিঙ্গাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংলাপের উদ্বোধনীতে বলেন, বছরে প্রায় ৩২ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হচ্ছে। বর্তমানে শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তথ্যে বলা হয়েছে, বছরে প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। তবে এ তথ্য পুরোপুরি হালনাগাদ নয়। সরকারি হিসাবের বাইরেও বহু রোহিঙ্গা রয়েছে যাদের নিবন্ধন নেই। শিবিরের আশপাশেও তারা বসতি গড়ে তুলেছে।
আরআরআরসি কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, দুই লাখ ৩৮ হাজার ৫০৭ পরিবারের মধ্যে মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ ছাড়িয়েছে।
রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ জানান, গত এক বছরে দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নতুন করে প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া কক্সবাজার শহর ও বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী বহু রোহিঙ্গার তথ্যও নেই।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফে আট হাজার একর বনভূমিতে ৩৩টি ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে। ছোট জায়গায় লাখো মানুষের বস্তি গড়ে উঠায় জীবনযাপন কষ্টসাধ্য হলেও নতুন ক্যাম্প করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, একদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত, অন্যদিকে ক্যাম্পে জন্মহার বাড়ছে। তাই মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাতৃত্ব ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা এনজিওকর্মীরা জানান, রোহিঙ্গারা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি পছন্দ করেন না। সচেতনতা সৃষ্টি করেও তেমন সাড়া পাওয়া যায় না। খুব কম পরিবারই পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। অনেকে একাধিক বিয়ে করে এবং প্রতিটি স্ত্রীর গড়ে সাত-আটজন করে সন্তান থাকে। কোনো কোনো পরিবারে ১৭-১৮ জন সদস্যও রয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন