খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার পর সেনাবাহিনীর ১৫ কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা সদর।
তবে তাদের বিচার সামরিক আইন নাকি আইসিটি (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) আইন অনুযায়ী হবে এ প্রশ্নে সরাসরি উত্তর দেয়নি সেনাবাহিনী।
শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসের মেসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন,“আইসিটি আইন বনাম সেনা আইন— মুখোমুখি বিষয়টি না বলাই ভালো।”
তিনি বলেন, “আইসিটি আইনে বলা আছে, অভিযোগপত্রে নাম উঠলে তার চাকরি চলে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— সে কি সাজাপ্রাপ্ত? সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও আপিলের সুযোগ থাকে। আপিলে খালাস পেলে সে আবার চাকরিতে ফিরতে পারে। আবার যদি সাজা বহাল থাকে, তখনই তাকে সাজাপ্রাপ্ত বলা যাবে।”
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান আরও বলেন, “এই দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় অনেকেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বা মারা যান— এগুলো মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয়।”
তিনি জানান, “সেনাবাহিনীতে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে। কোনো কর্মকর্তার বিচার চলাকালে বয়সজনিত কারণে অবসর নিলে খালাস পেলেও তাকে আর চাকরিতে ফেরানো যায় না। তাই ট্রাইব্যুনালের আইন নিয়ে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইব।”
গুম সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে সেনাবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,“গুম তদন্তের জন্য জাতীয় কমিশন আছে। সেনাবাহিনী শুরু থেকেই কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে এবং করছে। বাংলাদেশ আর্মি ন্যায়ের পক্ষে যে রায় ন্যায়সঙ্গত হবে, সেনাবাহিনী সেটাকেই মেনে নেবে।”
২২ অক্টোবরের মধ্যে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“আইনের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর ২২ তারিখের বিষয়ে আমরা আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেব।”
খবরওয়ালা/আশ