খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৪ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিজ ঘর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সুমি আক্তারের (২৬) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুমি আক্তার আমবাড়িয়া গ্রামের কৃষক গোলাপ রহমানের মেয়ে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুমি আক্তার জন্মগতভাবে ফাইব্রাস ডিসপ্লাসিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সংস্কৃত বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। দেড় মাস আগে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়ায় তার নিজ বাড়ি থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার হাড় দ্রুত ক্ষয় হচ্ছিল এবং একাধিক অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। তীব্র ব্যথা, চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা ও ক্রমাগত দুর্বলতার কারণে তিনি মানসিকভাবে চাপের মধ্যে ছিলেন। ফাইব্রাস ডিসপ্লাসিয়া রোগের কারণে শরীরে অনেক যন্ত্রণা হওয়ায় সহ্য করতে না পেরে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজের ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে দড়ি বেঁধে গলায় ফাঁস নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করে।
পরিবারের বরাত দিয়ে মাজিহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রফিকুজ্জামান বলেন, সে গতরাত ৩টা পর্যন্ত নিজ ঘরে লেখাপড়া করছিল। পরে ফজরের নামাজের জন্য ডাকতে গেলে তার ঘরের দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর দেখা যায় সে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।
মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি বিরল রোগে আক্রান্ত ছিল। সহপাঠী এবং গ্রামের বিভিন্ন মানুষের সহায়তায় তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু গতকাল রাতে তার শরীরে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয়। পরে ভোরে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। ধারণা করা হচ্ছে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
খবরওয়ালা /এসএস