খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
হংকংয়ের তাই পো এলাকায় এক বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শহরজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার দুপুরে আগুন লাগার পর দ্রুতই তা পুরো ভবন কমপ্লেক্স জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। রাত পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। শহরের প্রধান নির্বাহী জন লি মধ্যরাতে জানান, এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আর ২৭৯ জন এখনও নিখোঁজ। অনেকেই দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ভবনের উপরের দিকের অংশে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। রাতের অন্ধকার ও ধোঁয়ার ঘনত্ব উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তোলে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ওয়াং ফুক কোর্ট নামে একটি বড় আবাসিক কমপ্লেক্সে, যেখানে মোট আটটি ভবন এবং প্রায় দুই হাজার অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। চার হাজার ছয় শতাধিক মানুষ এখানে বাস করেন। ফায়ার সার্ভিস এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেনি কতজন ভবনের ভেতরে আটকা রয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যও আছে বলে তারা জানিয়েছে।
চারপাশে যখন বিষণ্নতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তখন অনেক বাসিন্দাকে চোখের সামনে ধ্বংসযজ্ঞ দেখেও অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ৭১ বছর বয়সী এক বাসিন্দা ওং জানালেন, তাঁর স্ত্রী আগুন লাগা ভবনেই আটকা ছিলেন। আরেক বাসিন্দা হ্যারি চেউং বলেন, “আজ রাতে হয়তো বাসায় ফিরতে পারব না। কোথায় থাকব কিছুই বুঝতে পারছি না।”
আগুনের কারণে তাই পো–সংলগ্ন প্রধান দুই মহাসড়কের একটি বন্ধ করা হয়, ফলে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। বৃহস্পতিবার অন্তত ছয়টি স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা ব্যুরো।
রাতে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জরুরি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে এবং হতাহতের সংখ্যা কমানোর জন্য যা যা প্রয়োজন সব করা উচিত।
হংকংয়ের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ আগুন। ১৯৯৬ সালে কোউলুনে এক বাণিজ্যিক ভবনে আগুনে ৪১ জন মারা যান—এই ঘটনার আগে সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।