খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ নিরসনে আশার আলো দেখছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, এই যুদ্ধ থামবে কি না, তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো অবকাশযাপনকেন্দ্রে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই ইঙ্গিত দেন। যুদ্ধ বন্ধে একটি টেকসই শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ওয়াশিংটনে ইউরোপীয় নেতাদের সাথেও বসার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
শান্তি চুক্তির পথে অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সবকিছু যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। অন্যথায়, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।” ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন একটি সমঝোতার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এই শান্তি পরিকল্পনাকে বেগবান করতে প্রয়োজনে তিনি ইউক্রেনের পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি একটি ভাষণ মাসে ২৫ হাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে, তবে তিনি তা অবশ্যই করবেন।
তবে নিরাপত্তার গ্যারান্টি এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে এখনো কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে, যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে, কিন্তু ট্রাম্প এ বিষয়ে কিছুটা সতর্ক। ট্রাম্পের মতে, চুক্তির অগ্রগতি বর্তমানে ৯৫ শতাংশ পর্যায়ে রয়েছে। এই শান্তি প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও বড় ও কার্যকর দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শান্তি চুক্তির প্রধান অন্তরায় ও দাবিদাওয়ার চিত্র
| প্রধান পক্ষসমূহ | মূল দাবি ও অবস্থান |
|---|---|
| রাশিয়া (পুতিন) | পুরো দনবাস অঞ্চলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং ইউক্রেনের ন্যাটোর আশা ত্যাগ। |
| ইউক্রেন (জেলেনস্কি) | নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং দনবাস অঞ্চলে নিজেদের অধিকার বজায় রাখা। |
| যুক্তরাষ্ট্র (ট্রাম্প) | দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর আর্থিক ও সামরিক দায়ভার অর্পণ। |
| ইউরোপীয় ইউনিয়ন | ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, যা নিয়ে রাশিয়া দ্বিমত পোষণ করছে। |
দনবাস ইস্যু ও পুতিনের সাথে ফোনালাপ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে জটিল মোড় হলো দনবাস অঞ্চল। মস্কোর দাবি, কিয়েভকে এই অঞ্চলের দাবি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। অন্যদিকে, জেলেনস্কি আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্র এই প্রশ্নে কিছুটা নমনীয় হবে। ট্রাম্প ও জেলেনস্কি উভয়েই স্বীকার করেছেন যে দনবাসের ভবিষ্যৎ এখনো অমীমাংসিত। ট্রাম্প মনে করেন, দনবাস নিয়ে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সমঝোতা করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।
উল্লেখ্য যে, জেলেনস্কির সাথে বৈঠকের ঠিক আগেই ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ফোনে কথা বলেন। ট্রাম্প এই আলাপকে ‘ফলপ্রসূ’ বললেও ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুতিন ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। পুতিনের মতে, এই বিলম্ব যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করবে এবং ইউক্রেনকে অবিলম্বে দনবাস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতা এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। যদি সত্যিই আগামী কয়েক সপ্তাহে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা হবে বর্তমান দশকের অন্যতম বৃহৎ কূটনৈতিক বিজয়। অন্যথায়, দনবাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। জেলেনস্কির সাথে আলোচনার পর ট্রাম্প আবারও পুতিনের সাথে কথা বলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, যা থেকে বোঝা যায় হোয়াইট হাউস এই যুদ্ধ বন্ধে বর্তমানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।