খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকেন্দ্রিক অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য পাঁচ দিনের জন্য ৬৫৭ জন বিচারককে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে সরকার। এই পদক্ষেপ ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটগ্রহণের পরের সময়কালে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও নির্বাচনি অপরাধ মোকাবেলার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রেরিত চিঠিতে বলা হয়, মনোনীত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। এই পাঁচ দিনে ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে, ভোটের দিন এবং ভোটগ্রহণের দুই দিন পরে তারা নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৬৫৭ জন বিচারককে নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার সম্পন্ন করবেন। এছাড়া, প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের আওতায় সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
এর আগে, ভোটকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাহী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৩ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়। এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।
নিচের টেবিলে নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচারে মনোনীত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনের সময়সূচি সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| মনোনীত বিচারকের সংখ্যা | ৬৫৭ জন |
| দায়িত্বকাল | ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি |
| দায়িত্বের ক্ষেত্র | নির্বাচনি অপরাধের দ্রুত বিচার |
| আইনভিত্তি | ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ |
| ভোটগ্রহণের দিন | ১২ ফেব্রুয়ারি |
| প্রশাসনিক সমন্বয় | নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্ট পরামর্শক্রমে |
| নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট | ১,০৫১ জন, দায়িত্বকাল ৮–১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা |
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটের প্রতিটি কেন্দ্রে আইনগত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।