খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে মাঘ ১৪৩২ | ৩১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাজি ধরে ক্রিকেট খেলার বিরোধে মো. আরিফ হোসেন (২০) নামের এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডটি শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জিরতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রুগুরামপুর গ্রামে সংঘটিত হয়।
নিহত আরিফ কুতুবপুর গ্রামের বাঞ্ছারাম বাড়ির সিরাজ মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকায় তার মামার সঙ্গে একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন এবং এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে এসেছিলেন। নিহতের বড় ভাই আকিল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার মূল উত্তেজনার কারণ ছিল স্থানীয় যুবকদের বাজি ধরে ক্রিকেট খেলা।
ঘটনার ধারা:
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এলাকার কয়েকজন যুবক বাজি ধরে ক্রিকেট খেলার সময় দুই দলের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। আরিফ বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে প্রাহিম নামের এক যুবক ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করে। স্থানীয়রা সাময়িকভাবে বিষয়টি মিটমাট করলেও, শুক্রবার সন্ধ্যায় রুগুরামপুর গ্রামে আরিফের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তার বুকের বামপাশে ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে আরিফের চাচাতো ভাই উমায়ের (২১) ও ওমর (২২) নামের দুই যুবকও আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের বিবরণ এবং হামলাকারীদের পরিচয়:
| নিহত/আহত | বয়স | সম্পর্ক | আহতের অবস্থা/মৃত্যু |
|---|---|---|---|
| মো. আরিফ হোসেন | ২০ | সিরাজ মিয়ার ছেলে | মৃত্যু |
| উমায়ের | ২১ | চাচাতো ভাই | গুরুতর আহত |
| ওমর | ২২ | চাচাতো ভাই | গুরুতর আহত |
আরিফের বড় ভাই আকিল হোসেন জানিয়েছেন, “বাজি নিয়ে বিরোধের সময় আরিফ বাধা দিলে প্রাহিম (২১) ও সাইফুলসহ কয়েকজন বৃহস্পতিবার তাকে মারধর করে। শুক্রবার তারা আবারও হামলা চালিয়ে আমার ভাইসহ আরও দুইজনকে আহত করে।”
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান বলেন, “বাজি ধরে ক্রিকেট খেলা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি এ ধরনের স্থানীয় বিরোধ এবং বাজি খেলার প্রথা নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পুলিশ ও প্রশাসন এই ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।