খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ইরান জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজগুলোর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান থেকে আজারবাইজান হয়ে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করার কথাও জানিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এখানে নিরাপত্তা বজায় রাখা ইরানের অগ্রাধিকার। বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজসহ সকল বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে ইরানে অবস্থানরত ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আজারবাইজান হয়ে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করার বিষয়টি মানবিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
দূতাবাস বলেছে, বাংলাদেশ ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুই দেশই একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অটল রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান বজায় থাকবে।
তারা আরও জানায়, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারের আংশিক ও খণ্ডিত অংশ প্রচার করা হয়েছে, যা ভুল ব্যাখ্যার জন্ম দিতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য সহায়ক নয় বলে মন্তব্য করা হয়।
আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খতিবজাদেহের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, এই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
ইরান বাংলাদেশ সরকারের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের নীতিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রয়াত ইরানি নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকারের শোক প্রকাশ এবং জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টিকে “উল্লেখযোগ্য ও ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক সৌজন্য” হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান।
ঢাকার ইরান দূতাবাসে শোকবইয়ে বাংলাদেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতি এবং স্বাক্ষরের বিষয়টিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নৌ নিরাপত্তা | হরমুজ প্রণালীতে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস |
| মানবিক সহায়তা | ১৮৬ বাংলাদেশিকে ইরান-আজারবাইজান রুটে সরিয়ে নেওয়া |
| কূটনৈতিক আলোচনা | আন্তালিয়া ফোরামে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক |
| কূটনৈতিক অবস্থান | সংলাপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশকে প্রশংসা |
| শোক ও কূটনৈতিক সৌজন্য | ইরানি নেতার মৃত্যুতে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ |
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী শুধু বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক মানবিক সহায়তা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের এই অবস্থান বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।