ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবার ২৭ মার্চ সার্বিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। মূলত কাতারে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ফিনালিসিমা ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং আর্জেন্টিনার বিকল্প প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণে এই ম্যাচ বাতিল হয়ে যায়। এর বিকল্প হিসেবে স্পেনের জাতীয় দল এবার বলকান দলের মুখোমুখি হবে।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, “জাতীয় দল কাস্তেয়ন শহরে একটি কঠিন ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। এটি আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হবে, বিশেষ করে বিশ্বকাপ শুরুর আগে।” সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ভিয়ারিয়ালের দে লা সেরামিকা স্টেডিয়ামে, যা সাধারণভাবে এল মাদ্রিগাল নামে পরিচিত।
ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সার্বিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচ স্পেনের দলের জন্য কৌশলগত পরীক্ষা হবে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের কোচিংয়ে স্পেনের দল সম্ভাব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াডকে মাঠে নামানোর পাশাপাশি বিভিন্ন রক্ষণ ও আক্রমণ পরিকল্পনা পরীক্ষা করবে।
ফিনালিসিমার বাতিল হওয়ার পেছনের কারণগুলো নিম্নরূপ সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ | ঘটনা | প্রভাব |
|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা | কাতারে ফিনালিসিমা আয়োজনে অসুবিধা |
| মার্চ ২০২৬ | আর্জেন্টিনার বিকল্প প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান | ফিনালিসিমা বাতিল |
| ২৭ মার্চ | স্পেন বনাম সার্বিয়া প্রীতি ম্যাচ | নতুন প্রস্তুতি ম্যাচ নির্ধারণ |
| ৩০ মার্চ | স্পেন বনাম মিসর প্রীতি ম্যাচ | সম্ভাব্য নতুন তারিখ ও ভেন্যু বিবেচনা |
দোহায় ফিনালিসিমায় লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজদের নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার সঙ্গে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ না করার কারণে ম্যাচটি বাতিল করতে হয়। ২০২২ সালে ফিনালিসিমায় আর্জেন্টিনা ইতালিকে হারিয়েছিল, যা দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন এবং ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নকে মুখোমুখি করার ঐতিহাসিক ম্যাচ হিসেবে স্মরণীয় ছিল।
স্পেনের জন্য প্রীতি ম্যাচগুলোর গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে, কারণ ১১ জুন শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল, যা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে যে, স্পেনের দল মিসরের বিপক্ষে ৩০ মার্চের প্রীতি ম্যাচটিও নতুন ভেন্যুতে এবং পূর্বনির্ধারিত তারিখের এক দিন পরে আয়োজন করতে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেন এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম প্রধান প্রার্থী। সার্বিয়া ও মিসরের মতো প্রীতি ম্যাচগুলো দলের প্রস্তুতি ও সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।