খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
পরিবহন খাতের প্রভাবশালী নেতা ও এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থ ‘স্ট্রাকচারিং’ ও ‘স্মার্ট লেয়ারিং’ পদ্ধতিতে বৈধতার মুখোশ পরানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সিআইডি জানায়, এনায়েত উল্লাহ চাঁদাবাজির মাধ্যমে ১০৭ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৭৪ টাকা উপার্জন করেন এবং এ অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে ‘সাদা’ করার চেষ্টা করেন। গত মঙ্গলবার সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট রমনা থানায় মামলা করে, যা বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, এনায়েত উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের ১৯৯টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২,১৩১ কোটি টাকা জমা এবং ২,০০৭ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল সংগঠিত অর্থপাচার চক্রের মতোই পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি লেনদেন।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আদালতের আদেশে ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাট, রূপগঞ্জের দুটি প্লট জব্দ করা হয়েছে—যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ৫৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি টাকা।
আশির দশকের শেষ দিকে একটি পুরোনো বাস দিয়ে পরিবহন খাতে প্রবেশ করেন এনায়েত উল্লাহ। খুব দ্রুতই তিনি ২০টিরও বেশি বাসের মালিক হন এবং পরে পরিবহন মালিক সংগঠনে ক্ষমতাশালী অবস্থান তৈরি করেন। বিএনপি থেকে শুরু করে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগদান—দুই দলেরই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদও লাভ করেন।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি ১৬ বছর ধরে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় সংগঠনের মহাসচিব ছিলেন। সিআইডির দাবি—এই দীর্ঘ রাজনৈতিক-প্রশাসনিক ছায়াই তাঁকে ‘অপরাজেয়’ করে তোলে।
সিআইডির অভিযোগ, এনায়েত উল্লাহ পরিবহনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। নতুন বাস রুটে নামাতে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হতো। প্রতিদিনের চাঁদা তো ছিলই, মাসিক চাঁদাও সংগ্রহ করা হতো নিয়মিত। নতুন বাস কেনার সময় মালিকদের কাছ থেকে একটি অংশ দাবি করা হতো; অস্বীকার করলে বাসটি রাস্তায় নামতে দেওয়া হতো না।
ফলে অনেক কোম্পানি বাস বিক্রির সময় মালিকদের কাছ থেকে আগাম অতিরিক্ত টাকা নিয়ে চাঁদা পরিশোধ করত।
সিআইডির মামলার পর পরিবহন খাতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বহু বছর ধরেই এসব অভিযোগ ছিল, তবে এবার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক মামলায় চক্রটির আর্থিক কাঠামো পুরোপুরি উন্মোচিত হয়েছে।