খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে জুলাই মাসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ২৬৯ জন। কিন্তু শুধু জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ৪০৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় (৩০ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৬ জন। এ সময় মৃত্যু হয়েছে আরও দুইজনের। মারা যাওয়া দুইজনই পুরুষ এবং তাঁরা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ জনে। এর মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ এবং ৩৫ জন নারী।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে—১০৬ জন। এরপর রয়েছে ঢাকা মহানগর (৭৮), চট্টগ্রাম (৬৪), ঢাকার অন্যান্য এলাকা (৬২), রাজশাহী (৪৫), খুলনা (২৩), ময়মনসিংহ (৫) এবং রংপুর বিভাগে ৩ জন।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি জুলাই মাসেই—৩৯ জন। এর আগে জুনে মারা গেছেন ১৯ জন, জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন এবং মে মাসে মৃত্যু হয় তিনজনের।
মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও ঢাকাই এগিয়ে। বিভাগীয় হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন সর্বোচ্চ ৪৬ জন। এরপরে রয়েছে বরিশাল বিভাগ—সেখানে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।
হাসপাতালভিত্তিক রোগী ভর্তির হিসাবেও জুলাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ মাস। এই মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ৪০৬ জন। অন্য মাসগুলোতে ভর্তির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে -জুনে ৫,৯৫১, মে মাসে ১,৭৭৭, জানুয়ারিতে ১,১৬১, এপ্রিলে ৭০১, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ এবং মার্চে ৩৩৬ জন।
বিষয়টি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, “২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও এখনও এটি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর প্রধান কারণ হলো কার্যকর, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কৌশলের অভাব। প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালনের দাবি করলেও তার বাস্তব ফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, কলকাতা বা অন্যান্য অনেক শহর সফলভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আমাদেরও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আগস্টে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন